সিলেট চেম্বারের নতুন প্রশাসকের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০১৯      

ফয়সল আহমদ বাবলু, সিলেট

সিলেট চেম্বারের অতীত তেমন সুখকর নয়। যারা সঠিকপথে এগিয়ে গেছেন তারাই বিপদে পড়েছেন। এ কারণে শক্ত হাতে হাল ধরতে হবে। তাই নতুন প্রশাসককেও মামলার সম্মুখীন হতে হবে। এ কথাগুলো সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সদস্যদের। তাদের মতে, সিলেট চেম্বারের নির্বাচন দেওয়া একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের কাজ। আর এই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন নতুন প্রশাসকও সিলেটের পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।

চেম্বার সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে সিলেট চেম্বারে নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। সিলেট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া ভোটারসহ নানা কারণে অস্থিরতা দেখা দেয় চেম্বারে। এসব কারণে বিরক্তিবোধ করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি চেম্বারের অনিয়ম দূর করতে সিলেটের সুজনের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরীকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেন।

২০০৯ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেন ফারুক মাহমুদ চৌধুরী। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার বিরুদ্ধেও শুরু হয় নানা ষড়যন্ত্র। তাকেও বেকায়দায় ফেলে দেন সিলেট চেম্বারের সাবেক নেতারা। একপর্যায়ে তিনি নির্বাচন না দিয়ে জেলা প্রশাসনের হাতে দায়িত্ব দিয়ে নিজেকে মুক্ত করেন।

একাধিক ব্যবসায়ী নেতা জানান, সিলেট চেম্বারের বিগত সময়ের অনিয়মের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়। ওই বিভক্তির কারণে প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, সিলেটের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ঐক্য নেই। তাদের মধ্যে সমন্বয়ের মারাত্মক অভাব রয়েছে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলা হয় একবার। আর সিলেটে হয় দু'বার। কিন্তু সিলেটে আন্তর্জাতিক মেলার নামে যা হয় তা খুবই লজ্জাজনক। রীতিমতো সিলেটের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন সিলেটের ব্যবসায়ীরা। তাই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় এখনই সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ দেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক প্রশাসক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, আমি যখন দায়িত্ব নিই, তখন অনেকটা হযবরল অবস্থা ছিল চেম্বারে। অনেক অনেক অনিয়ম ধরা পড়ে। সব যখন ঠিকঠাক করে নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছিলাম তখনই আমার বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়। বিভিন্ন অভিযোগ এনে এসব মামলা করা হয়। অবশ্য এসব মামলার রায় তার পক্ষেই এসেছে।

তিনি বলেন, আসাদ উদ্দিন আহমদ একজন ভালো মনের মানুষ। এখন তার উচিত হবে সবাইকে নির্বাচনমুখী করা। আর এটি করতে হলে প্রথমেই তার যে কাজ করা উচিত সেটি হলো ভুয়া ভোটার চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এছাড়া যারা ভূয়া সনদে ভোটার হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া। আর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ কেউ করতে চাইবে না।

গত ৩১ মে সিলেট চেম্বারের নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু জাল ভোটার তালিকা প্রণয়নের অভিযোগে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। গত ২ ফেব্রুয়ারি চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান বিজিত চৌধুরী। গত ২৭ এপ্রিল ভোট গ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গত ১৮ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। গত ৩০ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি সরেজমিন অভিযোগের সত্যতাও পায়।

গত ৩০ এপ্রিল বিচারপতি হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সিলেট চেম্বারের কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। এরপর চেম্বারের

সদ্য সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ আপিল করলে তাও খারিজ হয়। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আগামী চার মাসের জন্য সিলেট চেম্বারের প্রশাসকের দায়িত্ব দেয় আসাদ উদ্দিন আহমদকে। এ সংক্রান্ত আদেশের

অনুলিপি ই-মেইলে সিলেট চেম্বারে এসে পৌঁছেছে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেট চেম্বারের নির্বাচন আয়োজন করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়েছে। আজ চেম্বারের দায়িত্ব নেবেন আসাদ উদ্দিন।

এ ব্যাপারে আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমার প্রথম কাজ হলো জাল ভোটার শনাক্ত করে নির্বাচনের ব্যবস্থা নেওয়া। উভয় পক্ষই যাতে নির্বাচনে আসে, সে ব্যবস্থা করা। তিনি বলেন, চেষ্টা করব সবাইকে নিয়ে সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দিতে। আজ দুপুর ১২টায় প্রশাসকের দায়িত্ব নেবেন বলেও জানান তিনি।