বরিশালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই লঞ্চে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

ঈদ উৎসবের দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলমুখী হতে শুরু করেছেন মানুষ। যাত্রীদের ভিড়ে গতকাল শনিবার বরিশাল নৌবন্দর ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বিকেল ৫টার মধ্যেই সব লঞ্চ পূর্ণ হয়ে যায়। এমনকি প্রথম শ্রেণির যাত্রীদের কেবিনের সামনের পথও দখল করে নেন সাধারণ যাত্রীরা।

বরিশাল নৌবন্দরের কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ঈদের পরের দিন থেকেই কর্মমুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন বরিশাল থেকে ছয়টি করে লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। তবে শনিবার যাত্রীর চাপ আগের দিনের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। গতকাল সন্ধ্যার পর বরিশাল থেকে ১৬টি লঞ্চ ঢাকায় গেছে। দিনে ছেড়ে গেছে আরও দুটি নৌযান। বরিশাল-ঢাকা রুটের এমভি পারাবত-১০ লঞ্চের সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম খান জানান, ঈদের পরদিন থেকে ঢাকামুখী যাত্রীরা যেতে শুরু করলেও মূল চাপ ছিল গতকাল।

বরিশাল নদীবন্দরে কথা হয় গাজীপুরের গার্মেন্ট সুপারভাইজার আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, রোববার ছুটি শেষ হচ্ছে। তাই চলে যেতে হচ্ছে। বাকেরগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র জসীম উদ্দিন শান্ত বলেন, 'স্বজনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ করেছি। এখন লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে হবে। তাছাড়া ঢাকায় বন্ধুরা রয়েছে। তাই একটু আগেভাগেই বরিশাল ত্যাগ করছি।' বরিশাল নদীবন্দর ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলা, বাগেরহাট, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে শতাধিক লঞ্চ গতকাল ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন লঞ্চ মালিক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু। সংশ্নিষ্টরা  জানান, প্রতিটি লঞ্চেই ছিল ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ যাত্রী।

যাত্রীদের ব্যাপক চাপ ছিল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে। ঢাকা-বরিশাল রুটের বাসগুলো একের পর এক ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শনিবার সকাল থেকে শতাধিক বাস ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে।