কাবিখার চাল নিয়ে সরাইলে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০১৯      

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টিআর-কাবিখা কর্মসূচির বরাদ্দ নিয়ে বিএনপি থেকে নির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের (সরাইল-আশুগঞ্জ) সাংসদ ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া এবং বর্তমান সংসদে বিএনপির একমাত্র সংরক্ষিত নারী এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন। গতকাল শনিবার বিকেলে সংঘর্ষ শুরুর পর রণক্ষেত্রে পরিণত হয় সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ফার্স্ট গেট এলাকা।

সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল প্রায় ঘণ্টাখানেক। এতে মহাসড়কের দু'পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সরাইল থানা পুলিশের পাশাপাশি ভৈরব ক্যাম্প থেকে র‌্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সরাইল থানার ওসি মফিজ উদ্দিন ভূঞা জানান, বিএনপির দুই এমপির সমর্থকদের সংঘর্ষের কারণে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

দলীয় দুই এমপির সমর্থকদের মধ্যকার সংঘর্ষের কথা স্বীকার করে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, শাহবাজপুর ইউনিয়নের জমাদ্দারপাড়ার বাসিন্দা জুনায়েদকে কাবিখা কর্মসূচি থেকে চাল বরাদ্দ দেন এমপি আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। জুনায়েদ এমপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এ নিয়ে গতকাল বিকেলে এমপির সমালোচনা করেন ফার্স্ট গেট এলাকার বাসিন্দা যুবদল নেতা জুয়েল। তিনি এমপি রুমিন ফারহানার সমর্থক। এমপিকে নিয়ে জুয়েলের সমালোচনা শুনে প্রতিবাদ জানান জুনায়েদ। এ নিয়ে বিরোধের এক পর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা বাবুল মিয়া নামে সাত্তার ভূঁইয়ার এক সমর্থককে মারধর করেন। এর জের ধরে বিকেল ৫টার দিকে দু'পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে মহাসড়কে। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। এ সময় মহাসড়কের আশপাশের কয়েকটি দোকানও ভাংচুর করেন সংঘর্ষকারীরা। খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ও ভৈরত ক্যাম্পের র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। ব্যাপক লাঠিচার্জ করে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

গতকাল রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেনি কেউ। এ ব্যাপারে দুই এমপির কাছ থেকেও মেলেনি কোনো প্রতিক্রিয়া। এদিকে সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এমপি সাত্তার ভূঁইয়া এমপি তার নির্বাচনী এলাকার জন্য কাবিখা কর্মসূচির ১৬৬ টন চাল এবং টিআর কর্মসূচি থেকে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রকল্প জমা দেওয়া হলেও স্থানীয় এমপি এখন পর্যন্ত টিআর-কাবিখার চাল বা অর্থ ছাড় দেননি। এমন প্রেক্ষাপটে কাবিখার বরাদ্দ নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।