নাসিকের ভুয়া রসিদে যানবাহনে চাঁদাবাজি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০১৯      

এমএ খান মিঠু, নারায়ণগঞ্জ

নাসিকের ভুয়া রসিদে যানবাহনে চাঁদাবাজি

ইজারাদার মাহবুব হাসান - টোল আদায়ের ভুয়া রসিদ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নাম ব্যবহার করে ভুয়া রসিদ দিয়ে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে মাহবুব হাসান ডিউক নামে এক ইজারাদারের বিরুদ্ধে। তিনি বন্দর খেয়াঘাট সিএনজি-ইজিবাইক স্ট্যান্ডের ইজারাদার। স্ট্যান্ডের কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে ভুয়া রসিদ দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে ডিউক ও তার লোকজন। প্রতি মাসে এভাবে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েক লাখ টাকা।

সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুলতান আহমেদের বাড়ির অদূরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনা ঘটলেও তিনি রহস্যজনক কারণে রয়েছেন নিশ্চুপ। আর বন্দর থানা পুলিশ বলছে, তাদের কাছে এ ব্যাপারে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তারা ব্যবস্থা নেবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্দর খেয়াঘাট সংলগ্ন সিএনজি ও ইজিবাইক স্ট্যান্ডের ইজারা পান মাহবুব হাসান ডিউক। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি সিএনজি ও ইজিবাইক থেকে তিনি সিটি করপোরেশন নির্ধারিত ১৫ টাকা হারে দিনে একবার টোল আদায় করতে পারবেন। কিন্তু তিনি সিএনজি ও ইজিবাইক স্ট্যান্ডের কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে বন্দর সিরাজদৌলা মাঠের মোড়ে তার লোক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থেকে সিটি করপোরেশনের ভুয়া রসিদ দিয়ে অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করছেন। রসিদে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নাম ও লোগো থাকলেও নেই ইজারাদারের নাম। ওই রসিদ দিয়ে ডিউকের লোকজন বড় ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে ২০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান থেকে ১০০ টাকা, ছোট ট্রাক থেকে ৭০ টাকা, মাইক্রোবাস থেকে ৫০ টাকা হারে টোল আদায় করে। কোনো পরিবহন এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ডিউকের লোকজন ট্রাক আটকে রেখে মালপত্র রেখে দেয় বা চালকদের নানাভাবে হয়রানি করে। ডিউকের পক্ষে এই চাঁদা তোলে তার সহযোগী বাবু ও পাপড়ি নামে দুই যুবক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাকচালক বলেন, 'টাকা না দিলে গাড়ি আটকে রাখে ইজারাদারের লোকজন। মালপত্র নামিয়ে নিয়ে যায়। ঝামেলায় পড়তে চাই না বলেই টাকা দিয়ে চলে যাই।'

সাদেকুর নামে আরেক ট্রাকচালক বলেন, 'সিটি করপোরেশনের নামে রসিদ দেয়, তাই টাকা দিয়ে দেই। আমরা তো আর জানি না এই রসিদ ভুয়া।'

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব হাসান ডিউক বলেন, তার এলাকায় বড় কোনো ট্রাক প্রবেশই করে না। ফলে ট্রাক থেকে টোল আদায়ের প্রশ্নই ওঠে না। তবে রাতের আঁধারে কিছু ব্যক্তি নাসিকের রসিদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে টোল আদায় করে।

তবে ওই ব্যক্তিরা কারা এ বিষয়ে কিছু বলেননি ডিউক। দিনের বেলায় যারা প্রকাশ্যে টোলের নামে চাঁদা আদায় করে, তারা আপনার লোক- এ প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান।

সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ বলেন, 'লোকগুলো এদিক-সেদিক গাড়ি থামিয়ে যানজট সৃষ্টি করে। তাদের পকেটে তিন ধরনের স্লিপ থাকে। ১৫ টাকার স্লিপ ছাড়াও ১০০-২০০ টাকার স্লিপও থাকে। বিষয়টি আমি সিটি করপোরেশনকে জানিয়েছি। আমি এই অবৈধ টোল আদায়ের পক্ষে না।'

বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেব।

সিটি করপোরেশনের বাজার পরিদর্শক জহিরুল আলম বলেন, সিটি করপোরেশন থেকে ইজারাদারকে ছোট পরিবহন যেমন- বেবিট্যাক্সি, সিএনজি থেকে টোল নেওয়ার অথরিটি দেওয়া হয়েছে, এর বাইরে নয়। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সব ইজারাদারকে এ বিষয়ে সতর্কও করা হয়েছে। আমরা ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।