রক্তে সুগারের মাত্রা লক্ষ্য করুন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

ডা. শাহজাদা সেলিম, এন্ডোক্রাইন রোগ বিশেষজ্ঞ ,বিএসএমএমইউ

রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে দেহে কী ধরনের সমস্যা হয়, সে সম্পর্কে আমরা কমবেশি সবাই অবগত। বিশেষ করে যারা পারিবারিকভাবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, তারা এ সম্পর্কে ভালো করেই জানেন। অনেক কারণেই দেহে সুগারের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই অন্তত বছরে একবার রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। যাদের পরিবারে ডায়াবেটিস রোগী আছেন বা ছিলেন তাদেরও বছরে দু'বার রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে নানা ধরনের লক্ষণে তা প্রকাশ পায়।

অনেকে হয়তো এসব বিষয়ে জানেন না, আবার জানলেও লক্ষ্য করেন না; কিন্তু সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে দেহে কখন সুগার বেড়ে যাচ্ছে, তা লক্ষ্য করা  অনেক জরুরি।

দেহে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তা কিডনিতে চাপ ফেলতে থাকে দেহ থেকে সুগার বের করে দেওয়ার জন্য। অনেক বেশি এবং ঘন ঘন পানির তৃষ্ণা পায়, ঘন ঘন প্রস্রাব পায়। অনেক বেশি দুর্বলতা অনুভব করা। খুব অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা দেহে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধির লক্ষণ। সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে দেহে পানির ঘাটতি ঘটে। আর ডিহাইড্রেশনের ফলে দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে। হাতে-পায়ে বোধশক্তি না থাকা। হাত ও পায়ের আঙুল বা পুরো হাত অবশ বোধ করা দেহে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। এটি বেশ মারাত্মক পর্যায়ের লক্ষণ। চোখে ঘোলাটে দেখা। দেহে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে দৃষ্টিশক্তির ওপর তার প্রভাব পড়ে। ডায়েট বা ব্যায়াম না করেই হুট করে অনেক বেশি ওজন কমতে থাকা দেহে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। দেহের কোথাও কেটে গেলে তা না শুকানো এবং শুকাতে অনেক সময় লাগার ব্যাপারটিও দেহে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়া বোঝায়। এ ধরনের লক্ষণগুলো দেখা গেলে অবহেলা করা মোটেও উচিত নয়। যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, সুস্থ থাকুন।