খুলনায় টেক্সটাইল পল্লী স্থাপন নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিকল্প চিন্তা বিটিএমসির

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

মামুন রেজা, খুলনা

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা খুলনা টেক্সটাইল মিলের জমিতে 'খুলনা টেক্সটাইল পল্লী' স্থাপন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ২৪টি শিল্প প্লট বরাদ্দের জন্য দুই দফা দরপত্র আহ্বান করা হলেও তাতে কোনো সাড়া মেলেনি। ওই জমিতে টেক্সটাইল শিল্প স্থাপনে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি মিলবে না- এ আশঙ্কায় শিল্প উদ্যোক্তারা কেউ আগ্রহী হচ্ছেন না। এ অবস্থায় মিলটির প্রায় ২৩ একর জমিতে বিকল্প কী করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি)।

সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর নিউমার্কেটের পাশে ১৯৩১ সালে খুলনা টেক্সটাইল মিল স্থাপিত হয়। ১৯৯৩ সালের ১৯ জুন লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই এবং মিলটি বন্ধ করে দেয় বিএনপি সরকার। এরপর অর্ধ যুগ পড়ে ছিল মিলটি। ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ও পরে মহাজোট সরকার মিলের জমিতে টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে ২০১০ সালে মিলের স্থাপনা, যন্ত্রপাতি ও গাছপালা পাঁচ কোটি ৬০ লাখ টাকায় বিক্রি করে বিটিএমসি। এরপর সেখানে ২৪টি শিল্প প্লট চিহ্নিত করা হয়। তবে ২০১১ সালের আগস্টে জমির মালিকানা ও মিলের শেয়ার দাবি করে দু'জন উচ্চ আদালতে পৃথক দুটি মামলা করায় টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের কার্যক্রম থমকে যায়। এ ছাড়া পাওনা দুই কোটি টাকা আদায়ে মামলা করে রূপালী ব্যাংক। পরে বিটিএমসির উদ্যোগে মামলাগুলোর নিষ্পত্তি হয়।

বিটিএমসি সূত্রে জানা গেছে, খুলনা টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের জন্য গত বছরের জানুয়ারিতে বিভিন্ন সাইজের ২৪টি শিল্প প্লট বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সাতটি দরপত্র বিক্রি হলেও কেউ জমা দেয়নি। দ্বিতীয় দফা দরপত্র আহ্বান করা হলেও শিল্প উদ্যোক্তারা কেউ সাড়া দেননি।

বিটিএমসির ডিজিএম কাজী ফিরোজ হোসেন সমকালকে জানান, দু'বার দরপত্র আহ্বান করা হলেও কেউ দরপত্র জমা দেয়নি। সে কারণে কিছুদিন আগে বিটিএমসির চেয়ারম্যান এবং তিনি খুলনায় গিয়ে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কেডিএ চেয়ারম্যান তাদের জানান, জায়গাটি একেবারে শহরের মধ্যে। কেডিএর মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী আবাসিক এলাকার মধ্যে টেক্সটাইল শিল্প কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া কেউ এখানে টেক্সটাইল শিল্প স্থাপন করতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরেরও ছাড়পত্র পাবে না। সে কারণে শিল্প উদ্যোক্তারা কেউ আগ্রহী হচ্ছেন না।

তিনি আরও জানান, এ অবস্থায় টেক্সটাইল পল্লী স্থাপন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই জমিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) বিকল্প কী করা যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে নতুন কোনো পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

খুলনা টেক্সটাইল পল্লী বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শেখ মোশাররফ হোসেন সমকালকে জানান, খুলনায় টেক্সটাইল পল্লী স্থাপনের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। এখানে যদি এখন টেক্সটাইল পল্লী করার সুযোগ না থাকে তাহলে এই জমি কেডিএর কাছে বিক্রি করা যেতে পারে। সেই টাকা দিয়ে শহরতলিতে যেন একটি টেক্সটাইল পল্লী স্থাপন করা হয়, তাহলে খুলনার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আর মিলের জমিতে কেডিএ আবাসন প্রকল্প কিংবা বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স করতে পারে।