বরগুনায় বর্বরতা

রিফাত হত্যায় ব্যবহূত অস্ত্র উদ্ধার গ্রেফতার আরও ১

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত একটি রামদা উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যা মিশনে নেতৃত্ব দেওয়া রিফাত ফরাজীর তথ্য অনুযায়ী তাকে নিয়ে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের কলাভবনের পেছনের পরিত্যক্ত ডোবা থেকে ওই রামদা উদ্ধার করা হয়। রিফাত ফরাজী বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহ্‌জাহান বলেন, রিফাত ফরাজী সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছে। তার স্বীকারোক্তিতে দেওয়া তথ্যে একটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িত সন্দেহে গতকাল ভোরে আরিয়ান শ্রাবণ নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে রিফাত হত্যার ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হলো, যার মধ্যে মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি পাঁচজন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ূন কবির জানান, গ্রেফতার আরিয়ান শ্রাবণকে গতকাল বিকেলে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়্যাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আরও সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে এরই মধ্যে ছয় আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং পাঁচ আসামি বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে রয়েছে। তবে এজাহারভুক্ত ছয় আসামি এখনও পলাতক।

এদিকে, গতকাল বিকেলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের একটি প্রতিনিধি দল নিহত রিফাত শরীফ ও রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। এ সময় তারা মিন্নির কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন। মিন্নির এ মুহূর্তে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন বলে জানান প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।

প্রতিনিধি দলের ছিলেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাইকো সোশ্যাল কাউন্সিলর সালমা ইকরাম, সিনিয়র ডকুমেন্টালিস্ট ফাহমিদা জামান ও ইনভেস্টিকেটর হাসিবুর রহমান।