তিন জেলায় মনোনীত আরও ৩২৫ জন

'টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি স্বপ্নেও ভাবিনি'

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

রাজশাহী, বরিশাল ব্যুরো ও যশোর অফিস

কারও বাবা নেই, কারও নেই মা। কারও বাবা দিনমজুর-ভ্যানচালক, আবার কারও মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সন্তানের পড়ালেখার খরচ জুগিয়েছেন। এমন হতদরিদ্র পরিবারসহ রাজশাহী, বরিশাল ও যশোরের আরও ৩২৫ তরুণ-তরুণী মাত্র ১০৩ টাকা খরচ করে পুলিশে চাকরি পাচ্ছেন। তাদের অনেকে বলেছেন, টাকা ছাড়া পুলিশে চাকরি স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন কর্মজীবনে তারাও ঘুষ-দুর্নীতিমুক্ত থেকে মানুষের সেবা দিতে চান।

রাজশাহীর রাজপাড়া থানার চণ্ডীপুর এলাকার ইভা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি যখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়েন, তখনই বাবা তার মাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর মা মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে তাকে ও তার ভাইকে বড় করেন। ইভা বলেন, আমার চাকরি পেতে কোনো টাকা লাগেনি। তাই নিজেও কারও কাছ থেকে অবৈধ টাকা নেব না।

মতিহার থানার কাপাসিয়া এলাকার বেদেনা খাতুনের বাবা ভ্যানচালক। অভাব-অনটনে বড় হয়েছেন। তিনিও ১০৩ টাকায় চাকরি পেয়েছেন। তিনি বলেন, আগে শুনতাম চাকরি পেতে অনেক টাকা লাগে। ঘুষ ছাড়া চাকরি পাব তা কল্পনাও করিনি।

তানোরের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, আমি যেভাবে চাকরি পেয়েছি, সেভাবেই চাকরি করব। ঘুষ খাওয়ার প্রয়োজন হবে না। বাগমারার হাবিবুর রহমান সৎভাবে দায়িত্ব পালন করে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের যে খারাপ ধারণা তা দূর করতে চান।

যশোরের ঝিকরগাছা থানার সামনে প্রায় ২০ বছর ধরে নরসুন্দর (নাপিত) হিসেবে কাজ করেন রবিউল ইসলাম। রবিউল ইসলামের ছেলে সাহেব আলী এ বছর পুলিশের কনস্টেবল পদে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। সাহেব আলী জানালেন, ১০০ টাকার চালান আর তিন টাকার স্ট্যাম্পের খরচে চাকরি হয়েছে। লাইনে দাঁড়ানোর পর কত লোক কত কথা বলেছে। কিন্তু চাকরির জন্য কোনো টাকা লাগেনি। টাকা ছাড়া যে চাকরি হবে তা স্বপ্নেও ভাবিনি।

ঝিকরগাছার গদখালী এলাকার আবুল বাশার বলেন, এভাবে চাকরি পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তার বাড়ির লোকজন ভাবতেই পারেনি এভাবে ঘুষ ছাড়া চাকরি পাওয়া যায়।

রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দিতে গিয়ে অনেক তদবির ও অনুরোধকে উপেক্ষা করতে হয়েছে। এ জন্য অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন, বিরক্ত হয়েছেন। তারপরও আমরা স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসিনি। রাজশাহীতে ৮৮ জন চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে বলে জানান তিনি।

যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৬ জুন মৌখিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ১৯৩ জন চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাকিব হাসান বলেন, যশোরের আট উপজেলার অনেক কৃষক, শ্রমিকসহ দরিদ্র পরিবারের সন্তান এ তালিকায় রয়েছেন।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল বলেন, ৬ জুন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সবাই যোগ্য প্রার্থী। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে অধিকতর যোগ্য বিবেচনায় ৪৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে রোববার রাতে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।