ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

রোগীকে মারধরের অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দন্ত বিভাগের চিকিৎসক একেএম আনিসুর রহমান বাবলুর বিরুদ্ধে এক রোগীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত রোগীকে একই হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র ও ভুক্তভোগী রোগী জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে টিকিট কেটে হাসপাতালের দন্ত বিভাগের লাইনে দাঁড়ান কলেজছাত্র তরুণ মিয়া; কিন্তু ডা. বাবলু ১১টা পর্যন্ত কয়েকজন রোগী দেখেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এ সময় দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে তরুণ মিয়া ওই চিকিৎসকের রোগী দেখার কক্ষের চেয়ারে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। দুপুর ১২টার দিকে ডা. বাবলু রোগী দেখতে সেখানে প্রবেশ করেন। তরুণ ভেতরে বসে আছে কেন সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন ডা. বাবলু। এক পর্যায়ে দু'জনের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার একপর্যায়ে তরুণকে মারধর শুরু করেন ডা. বাবলু। তিনি তরুণের মাথা ধরে টেবিলের সঙ্গে আঘাত করেন। এতে মাথা ফেটে যায়। তরুণ রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালের উপ-পরিচালককে বিষয়টি জানান। পরে তাকে একই হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার মাথায় দুটি সেলাইয়ের প্রয়োজন হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে তরুণ মিয়া অসুস্থ অবস্থায় ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। তরুণ ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর এলাকার বাসিন্দা ও ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

দন্ত বিভাগের ডা. একেএম আনিসুর রহমান বাবলু বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। ওই সময় টেবিলের কোণা লেগে আমার আঙ্গুল কেটে যায় আর রোগীও আঘাত পান। পরে আনসার ও পুলিশ ডেকে চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। দুই ঘণ্টা রোগী না দেখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই সময় তিনি কলেজে ক্লাস নিতে গিয়েছিলেন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার এ বিষয়ে জানান, মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে তরুণ নামে এক রোগী তাকে মারধরের বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।