হিজলায় ঠিকাদারের গাফিলতির অভিযোগ

মেঘনার ভাঙনে বিলীনের পথে আলীগঞ্জ বাজার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

বরিশাল ব্যুরো

মেঘনার ভাঙনে বিপন্নের মুখে পড়েছে হিজলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আলীগঞ্জ বাজার এলাকা। এরই মধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে একটি সড়ক। মেঘনার উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে বাজারের একমাত্র মসজিদের দেয়ালে। যেকোনো সময় মসজিদটি নদীতে হারিয়ে যেতে পারে। বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি দাখিল মাদ্রাসা, কয়েকটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা রয়েছে হুমকির মুখে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন প্রতিরোধে বালুর বস্তা ফেলার জন্য দায়িত্বরত ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য চলতি বর্ষায় তাদের এ প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ঠিকাদার কার্যাদেশ মতো বালুর বস্তা না ফেলায় আলীগঞ্জ বাজার-সংলগ্ন মেঘনায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি স্থানীয় জনগণ নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ভাঙন অব্যাহত থাকলে আলীগঞ্জ বাজারসহ সংলগ্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ঐতিহ্যবাহী পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলীগঞ্জ ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি হাফেজিয়া মাদ্রাসা পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে। পিএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয় ভবন থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে উত্তাল মেঘনা বয়ে চলেছে।

ধুলখোলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কয়েক বছর ধরেই মেঘনার ভাঙনের কবলে পড়েছে সংলগ্ন হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি জনপদ। ধুলখোলার আলীগঞ্জ বাজারটি এলাকার কয়েকশ' বছরের ঐতিহ্য। সম্প্রতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপি পরিদর্শন শেষে বাজারটি রক্ষার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) নির্দেশ দেন। এর পরপরই ২৫ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ ফেলার জন্য পাউবো ঠিকাদার মো. শহীদকে কার্যাদেশ দেয়। ঠিকাদার ৯ হাজার ৭০০ জিও ব্যাগ ফেলার পর অজ্ঞাত কারণে কাজ বন্ধ করে দেন। চলতি সপ্তাহে মেঘনা উত্তাল হওয়ায় এলাকাটি আবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। এ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২৫ হাজার জিও ব্যাগ ফেললে এবার বাজারটি ভাঙনের মুখে পড়ত না।

বাজারের ব্যবসায়ী সুনীল মালাকার বলেন, মেঘনার ভাঙনে আলীগঞ্জ বাজার থেকে পার্শ্ববর্তী মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কটি গত বছর নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় সাংসদের বরাদ্দে বিকল্প একটি রাস্তা নির্মিত হয়। এবার ওই রাস্তাটিও হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা চাঁদা তুলে রোববার ত্রিপল কিনে সেটি দিয়ে রাস্তা ঢেকে দিয়েছে। যাতে নদীর ঢেউ এসে সরাসরি রাস্তার  ওপর আঘাতে মাটি ধুয়ে না যায়। তিনি আরও বলেন, জিও ব্যাগ ফেলার জন্য ঠিকাদার শহীদকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ঠিকাদার মো. শহীদ জানান, ৯ হাজার ৭০০ জিও ব্যাগ ফেলানোর পর তিনি বস্তা সংকটে পড়েছেন। এজন্য কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছেন। বস্তা সরবরাহের জন্য কয়েকজনকে অগ্রিম টাকাও দিয়েছেন। নতুন করে বস্তা পেলে কাজ শুরু করবেন বলে এ ঠিকাদার দাবি করেন।