যুদ্ধাপরাধ ট্র্রাইব্যুনাল

রাজশাহীর মুসা রাজাকারের রায় যে কোনো দিন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় চারজন সাঁওতালসহ ১৫ জনকে হত্যার অভিযোগে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কুখ্যাত রাজাকার আবদুস সামাদ মুসা ওরফে ফিরোজ খাঁর মামলার রায় যে কোনো দিন ঘোষণা করা হবে। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গতকাল সোমবার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এ সময় মুসা রাজাকার আদালতে উপস্থিত ছিল।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর ছিলেন ঋষিকেশ সাহা ও জাহিদ ইমাম। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান।

প্রসিকিউটর জাহিদ ইমাম সমকালকে বলেন, একাত্তরে গণহত্যা, হত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আমরা এই আসামির সর্বোচ্চ সাজা (মৃত্যুদণ্ড) চেয়েছি।

গত বছরের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর ধানমণ্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওইদিন প্রতিবেদনে এই আসামির বিরুদ্ধে ১৫ জনকে হত্যা, ২১ জনকে নির্যাতন, ৮-১০টি বাড়িঘর লুণ্ঠনসহ ৫০-৬০টি বাড়িঘর অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করার পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।

তদন্ত সংস্থার সূত্রে জানা যায়, পুঠিয়ার বাঁশবাড়ী এলাকার মৃত আব্বাস আলীর ছেলে আবদুস সামাদ (মুসা) ওরফে ফিরোজ খাঁ মুক্তিযুদ্ধের আগে মুসলিম লীগ সমর্থক ছিল। যুদ্ধের সময় জামায়াতের সমর্থক হিসেবে শান্তি কমিটির স্থানীয় নেতার নেতৃত্বে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত ছিল। একটি ফৌজদারি মামলায় ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ২৪ জানুয়ারি তাকে যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

তদন্ত সংস্থার অভিযোগে বলা হয়, একাত্তর সালের ১৯ এপ্রিল মুসা ও তার সহযোগীরা পুঠিয়ার ৪ নম্বর ভালুকগাছী ইউনিয়নের পশ্চিমভাগের সাঁওতাল পাড়ায় নিজ হাতে তরবারি দিয়ে ও পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে লাডে হেমরম, কানু হাসদা, টুনু মাড্ডি ও জটু সরেনকে হত্যা করে। তার বিরুদ্ধে গত বছরের ১২ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ২০ এপ্রিল অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর শুনানি শেষে ৯ সেপ্টেম্বর মুসার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হয়।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পুঠিয়ার বাঁশবাড়িয়া, পশ্চিমভাগ ও গোটিয়া গ্রামের আদিবাসী ও বাঙালিদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায় রাজাকার মুসা। এরপর সে ভারতে পালিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর '৭৫ সালে গোপনে সে দেশে ফিরে আসে।