ধর্ষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার দাবি

মহিলা পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত- এ ছয় মাসে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিসহ মোট দুই হাজার ৮৩ নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ৭৩১ জন। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার ১১৩ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৬ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২৩ জনকে। দেশের ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এ তথ্য তুলে ধরেছে।

পরিষদের নেতারা মনে করছেন, বর্তমানে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি গণমানুষের জীবনে বড় ধরনের নেতিবাচক অভিঘাত তৈরি করছে। উন্নয়নের পাশাপাশি এই নেতিবাচক চিত্র প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে ধর্ষণ আইনের সংশোধন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার দাবি জানান।

গতকাল সোমবার রাজধানীর তোপখানা রোডে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নারী ও কন্যাদের উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা নিত্যদিনের খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই তথ্য অনুসারে ২০১৪-২০১৮ এ সময়কালে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিসহ মোট পাঁচ হাজার ২৭৪ নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে  মোট তিন হাজার ৯৮০ জন। এদের মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৪৫ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৪৯ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৭৩০ জনকে।

'বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতি, অব্যাহত নারী-শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ  ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবি' আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন পরিষদের লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি পরিচালক অ্যাডভোকেট মাকছুদা আখতার লাইলী। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতনের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানসহ সব জনগণের উদ্যোগে প্রচার অভিযান এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এ সময় আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, 'বাংলাদেশের নারীরা শুধু রাষ্ট্র পরিচালনা নয়, সামাজিক মূল উন্নয়ন ধারায়, সামাজিক জীবনে, চ্যালেঞ্জিং পেশায় উদীয়মান বাংলাদেশ, অগ্রসর বাংলাদেশ, উন্নত বাংলাদেশের একটি দৃশ্যমান শক্তি। অথচ সেই নারীই এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গণপরিবহন, শিক্ষাঙ্গনসহ কোথাও নিরাপদ নয় নারী।' এ সময় নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩২ দফা সুপারিশ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ, সীমা মোসলেম, সহসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানা কবীর প্রমুখ। সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেসি পরিচালক জনা গোস্বামী।