রীভা গাঙ্গুলীর সঙ্গে বৈঠকে আ. ক. ম. মোজাম্মেল

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বিশ্বে অনন্য

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বিশ্বে অনন্য বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী এ দুটি দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক, পারস্পরিক বন্ধুত্ব

ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।

গতকাল সোমবার মন্ত্রী রাজধানীর পরিবহন পুল ভবনে মন্ত্রণালয়ের নিজ অফিস কক্ষে ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন। বৈঠকে ভারত সরকারের সহযোগিতার স্মৃতি রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন মন্ত্রী। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ বলেন, তখন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন।

আতঙ্কবাদীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের প্রশংসা করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার পেছনে তার অবদান প্রশংসনীয়। দু'দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপনের প্রস্তাব দেন রীভা গাঙ্গুলী। তিনি এ সময় বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অসচ্ছল একশ' মুক্তিযোদ্ধাকে ভারতে ফ্রি চিকিৎসা প্রদান এবং দুই হাজার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনিকে (পৌষ্য) ভারতীয় শিক্ষা বৃত্তি দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মিত্র বাহিনীকে (ভারতীয় বাহিনী) দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণার স্থান এবং যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের সম্মাননা জানানোর জন্য এক হাজার ৫৯৫টি ক্রেস্ট সংরক্ষিত আছে। ভারত সরকার দ্রুততম সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে এ সম্মাননা প্রদানের সুযোগ করে দেবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম আরিফুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।