রিমান্ড শেষে কারাগারে আফজাল

বিমানে স্বর্ণ পাচারে জড়িত ১২ মেকানিক

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজে স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে মেকানিক বিভাগের ১২ কর্মী জড়িত। পুলিশের কাছে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন এয়ারক্র্যাফট মেকানিক আফজাল হোসেন। তদন্তের স্বার্থে তার দেওয়া অনেক তথ্য এখনই প্রকাশ করছে না পুলিশ। গতকাল সোমবার চার দিনের রিমান্ড শেষে আফজালকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ২ জুলাই হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বিজি-১২২ নম্বর ফ্লাইটের শৌচাগারের একটি গোপন পকেট থেকে সোয়া ১২ কেজি ওজনের ১১০টি স্বর্ণবার জব্দ করেন ঢাকা কাস্টমস কর্মকর্তারা। এ সময় বিমানের এয়ারক্র্যাফট মেকানিক আফজাল হোসেনকে আটক করা হয়। এ সংক্রান্ত মামলায় তাকে বিমানবন্দর থানায় সোপর্দ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় আদালতের মাধ্যমে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ আফজালকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পুলিশকে আফজাল জানিয়েছে, নিরাপদ বিবেচনায় আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাকারবারিরা বিমানের শৌচাগার ও বিভিন্ন গোপন পকেট ব্যবহার করে। পাচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে বিমান এয়ারক্র্যাফটের মেকানিক বিভাগের এক ডজন কর্মীও জড়িত। তার দেওয়া বিভিন্ন তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

মেকানিক আফজাল হোসেন বরগুনা বেতাগির বিবিচিনি গ্রামের নাজির উদ্দিনের ছেলে। ঢাকায় সে দক্ষিণখানের আজমপুরের ২৭১ মুক্তিযোদ্ধা সড়কের রোড-১-এর বাড়ি-১-এ বসবাস করে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই শরীফ হোসেন (১) সমকালকে জানান, চার দিনের

রিমান্ডের পর গতকাল বিমান এয়ারক্র্যাফটের মেকানিক আফজাল হোসেনকে আদালতে নেওয়া হয়। শুনানির পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিমানবন্দরে স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। তবে তদন্তের স্বার্থে চক্রে জড়িত সদস্যদের নাম এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া সমকালকে জানান, প্রায়ই বিমানসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের শৌচাগার ও গোপন পকেট থেকে পরিত্যক্ত হিসেবে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণবার জব্দ করেন কাস্টমস ও শুল্ক্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এসব ঘটনায় মামলা না হওয়ায় চক্রটি আড়ালেই থেকে যায়। গত ২ জুলাইয়ের ঘটনায় মেকানিক আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা তদন্তে স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিমান এয়ারক্র্যাফটের একটি শক্তিশালী চক্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। গত মঙ্গলবার এয়ারক্র্যাফট থেকে জব্দ করা সোয়া ১২ কেজি স্বর্ণবারের বাজারমূল্য প্রায় ছয় কোটি ৩৮ লাখ টাকা। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, মামলার তদন্তে বিমানে স্বর্ণ পাচার চক্রকে শনাক্ত করার দায়িত্ব পুলিশের।