এক মঞ্চে কামরুল-সুলতান কাইয়ুম স্মরণ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

এক মঞ্চে কামরুল-সুলতান কাইয়ুম স্মরণ

সোমবার শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোমবাতি প্রজ্বালন করে পটুয়া কামরুল হাসান, এস এম সুলতান ও কাইয়ুম চৌধুরীকে স্মরণ- সমকাল

মিলনায়তনের প্রবেশমুখেই তিনটি আলোকচিত্র। গোলাপ পাপড়ি ছিটিয়ে তার ওপর প্রজ্বালিত প্রদীপ। যার আলো যতটুকু না তাদের মুখে পড়ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি আলোর বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছিলেন তারা এ দেশের চারুকলা জগতে। পটুয়া কামরুল হাসান, এস এম সুলতান ও কাইয়ুম চৌধুরীকে নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির নিয়মিত আয়োজন 'স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ' নিয়ে গতকাল সোমবার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে এ আয়োজনে পটুয়া কামরুল হাসানকে নিয়ে প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, এস এম সুলতানকে নিয়ে চিত্র সমালোচক মোস্তফা জামান এবং কাইয়ুম চৌধুরীকে নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চিত্র সমালোচক শাওন আকন্দ। আলোচনায় অংশ নেন শিল্পী হাশেম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন শিল্পী নিসার হোসেন, চিত্র সমালোচক মঈনুদ্দীন খালেদ এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর স্ত্রী তাহেরা খানম চৌধুরী। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন চারুকলা বিভাগের পরিচালক আশরাফুল আলম পপলু। আয়োজনের শুরুতেই অতিথিরা তিন শিল্পীর প্রতিকৃতিতে মোমবাতি প্রজ্বালন করেন।

'স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ :গুরুসদয় দত্ত-কামরুল হাসান পরম্পরা' শীর্ষক প্রবন্ধে মফিদুল হক বলেন, পাশ্চাত্য রীতির শিল্পচর্চা ছাপিয়ে গুরুসদয় দত্ত মনোনিবেশ করেছিলেন লোকায়ত শিল্পরূপের দিকে। এই একই লক্ষ্যে কামরুল হাসানকে ধাবিত করেছিলেন তিনি। গুরুসদয় দত্ত এবং ব্রতচারী শিল্পদর্শন ও কৃত্যের সঙ্গে সম্পৃক্তি কামরুল হাসানের শিল্পদৃষ্টি গড়তে প্রধান ভূমিকা রাখে। লোকশিল্পের ঐতিহ্য অনুসন্ধান, তা ধারণ এবং এর পুনঃস্থাপন কামরুল হাসানের জন্য কেবল শিল্পসাধনার বিষয় ছিল না। তিনি এর প্রায়োগিক তাৎপর্য প্রদানে সদা সচেষ্ট ছিলেন।

'এস এম সুলতানের সমালোচনা ও সৃষ্টিশীলতার পুনর্পাঠ' শীর্ষক প্রবন্ধে মোস্তফা জামান বলেন, এস এম সুলতানের কাজ কেবল সিম্বল বা ফর্ম হিসেবে চোখের সামনে হাজির হয় না। তার যে সকল কাজ কেবল গ্রামীণ দৃশ্য নয়, তাতে কল্পদৃষ্টি দৃশ্যমান, যেমন 'আদিম বৃক্ষরোপণ' অথবা 'যাত্রা', এসব চিত্রকল্প এর পেছনের আখ্যানের সূত্র হিসেবে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

'লোকশিল্প, আধুনিকতাবাদ এবং শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী' শীর্ষক প্রবন্ধে শাওন আকন্দ বলেন, বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার ইতিহাসে কাইয়ুম চৌধুরীর স্থান শেষ পর্যন্ত বিমূর্তধারার চিত্রকর হিসেবে নয়। বরং জয়নুল-কামরুলের ধারাবাহিকতায় তার চিত্রকলাতেও বাংলার লোক-ঐতিহ্য ও দেশজ সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং মাতৃভূমির রূপ ও স্বদেশ ভাবনার প্রতিফলন দেখা গেছে। ষাটের দশকে তৎকালীন পশ্চিমা আধুনিকতার অভিঘাতে তিনি বিমূর্ত রীতির শিল্পী রচনা করলেও, তিনি কখনই দেশের পরিচয় মুছে ফেলতে চাননি। বরং লোকজ ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নিজস্ব শৈলী নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। বাংলার প্রকৃতি আর মানুষ- তার ক্যানভাসে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।