মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর সরে যেতে চান

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ছাত্রদলের চলমান সংকট সমাধানের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চ কমিটির নেতাদের আচরণ 'সম্মানজনক' না হওয়ায় তারা সরে দাঁড়াতে চাইছেন বলে জানা গেছে।

গতকাল বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্কাইপের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে তারা এ কথা জানান বলে সূত্র জানিয়েছে। এ অবস্থায় ছাত্রদলের সংকটের সমাধান না হয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে বলে সংশ্নিষ্টরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতা বলেন, ছাত্রদলের কমিটি ৩ জুন বিলুপ্ত করার পর সৃষ্ট সংকট সমাধানে সার্চ কমিটি ব্যর্থ হলে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্রকে দায়িত্ব দেন তারেক রহমান। তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের দিকেও নিয়ে যান। কিন্তু সম্প্রতি সার্চ কমিটির কোনো কোনো নেতার কর্মকাণ্ড তাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। সার্চ কমিটির কর্মকাণ্ডে তাদের মনে হয়েছে, আব্বাস-গয়েশ্বর এবং সার্চ কমিটি মুখোমুখি অবস্থানে; যা দলের এবং ওই দুই নেতার জন্য সম্মানজনক নয়। এর বাইরে ছাত্রদলের সংকট নিরসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বড় ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু সার্চ কমিটির নেতারা ছাত্রদল ইস্যুতে তাকে সহজভাবে নেননি। তারা স্থায়ী কমিটির নেতাদের কাছে আলালকে ছাত্রদলের সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়ায় না থাকতে শর্তারোপ করেন। এসব বিষয় ভালোভাবে নেননি স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী ওই দুই নেতা। এ কারণেই তারা সরে যেতে চাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা বলেন, তারা তারেক রহমানের সব সিদ্ধান্ত মেনে কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত একটি স্বল্প মেয়াদে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি করেছিলেন। তাদের এ দাবি স্থায়ী কমিটির নেতারা মানলেও সার্চ কমিটির নেতারা নিজেদের সিন্ডিকেট রক্ষার জন্য মানতে নারাজ। তারা বিভিন্ন উপায়ে সিনিয়র ওই দুই নেতাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সফল না হয়ে ভিন্নভাবে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পুরো দাবিকেই মানা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার বৈঠক করে সার্চ কমিটির নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্ষোভ প্রশমন করবেন।

জানতে চাইলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তারেক রহমান তাদের যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, ছাত্রদলের সবার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন বাকি যে কাজ আছে তা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা সমাধান করতে পারবেন।

সার্চ কমিটির অন্যতম নেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে আবার আহ্বায়ক কমিটি করলে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হবে। এটা গঠনতন্ত্রেরও পরিপন্থি। তারপর আবার আহ্বায়ক কে হবেন, কে ভোটার হবেন- তা নিয়েও অনেক সমস্যা। এসব নিয়ে অনেক পর্যালোচনা করেই একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।