অন্তঃকর্ণের ক্ষতি বধিরতার কারণ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

ডা. মনিলাল আইচ অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ইএনটি বিভাগ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল

অনেকেই কানে কম শোনার সমস্যায় ভোগেন। কানের যে কার্যক্রম, সেটা প্রাথমিকভাবে হলো শোনা। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ভারসাম্য রক্ষা করা। এ দুটি কানের বিশেষ কাজ। বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ ও অন্তঃকর্ণ- এই তিনটি অংশে কানকে ভাগ করা হয়। বহিঃকর্ণ ও মধ্যকর্ণের রোগ নিরাময়যোগ্য। এগুলো চিকিৎসার মাধ্যমে ভালো হয়ে যায়। আর অন্তঃকর্ণের রোগগুলো নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে সময়মতো সেগুলো নির্ণয় করা হলে তাও নিরাময়যোগ্য। প্রথমে বাইরের অংশ থেকে যদি আসি- কানের ভেতর একটি ময়লা তৈরি হয়। একে খৈল বলা হয়। এই খৈল একটি স্বাভাবিক জিনিস। এটি যদি পরিমাণে খুব বেশি হয়ে যায়, তাহলে কান বন্ধ

হয়ে যেতে পারে। কানের ভেতর যদি বাইরে থেকে কিছু প্রবেশ করে তাহলে কান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এরপর কানের ভেতর যে চামড়া রয়েছে, তাতে প্রদাহ হলেও কান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মধ্যকর্ণের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো পর্দা। এটি দিয়ে মানুষ কানে শুনতে পায়। শব্দ বাইরে থেকে গিয়ে পর্দায় একটি কম্পন তৈরি করে। এই পর্দায় যদি কোনো প্রদাহ হয়, কোনো ক্ষতি হয়, কিংবা পর্দায় কোনো ছিদ্র থাকে সেগুলোকে ওটাইটিস মিডিয়া বলা হয়। অনেকগুলোর ব্যথা হয়, আবার অনেকগুলোর ব্যথা হয় না। শুধু কান থেকে পানি পড়ে। এ কারণগুলো প্রধানত বহিঃকর্ণ ও মধ্যকর্ণের ভেতরের কারণ। অন্তঃকর্ণের ভেতরে যেগুলো রয়েছে সেগুলোর প্রধান কারণ হচ্ছে জন্মগত বধিরতা। মাঝামাঝি বিভিন্ন রোগের কারণে প্রদাহ হতে পারে। আবার ভেতরে যদি কোনো টিউমার হয় তার কারণে মিনিয়াস, মেনিনজাইটিসের কারণে অথবা অন্তঃকর্ণের ক্ষতির কারণে বধিরতা হতে পারে। তাই সমস্যা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।