জিসিএ সম্মেলনে বান কি মুন জলবায়ু অভিযোজনে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ঢাকায় এক সম্মেলনে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, জলবায়ু অভিযোজনে বাংলাদেশ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি ঢাকায় এসেছেন দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা থেকে শিক্ষা নিতে।

গতকাল বুধবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে 'ঢাকা মিটিং অব দ্য গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন (জিসিএ)' সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বান কি মুন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজন ও এর প্রভাব মোকাবেলায় গঠিত কমিশনের চেয়ারম্যান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা হেইনি, বিশ্বব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিওভা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বলেন, ১৯৭০ সালে এই দেশে ঘূর্ণিঝড়ে পাঁচ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। অথচ সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ফণীর যথার্থ পূর্বাভাস, কমিউনিটিভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র থাকার ফলে দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই ১৬ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। এ কারণে এবার দুর্যোগে ১২ জনের বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এ কারণেই বলা যায়, অভিযোজন অনুশীলনে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার যে নেতৃত্ব অর্জন করেছে, তা অলৌকিকের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

বান কি মুন বলেন, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় ২০০৯ সালে জাতীয় অভিযোজনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় যে প্রজ্ঞা ও কার্যকারিতার উদাহরণ দেখিয়েছে, তা সবাইকে অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি বলেন, অভিযোজনের প্রসঙ্গ যখন আসে, তখন জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায়

অগ্রভাগে থাকা বাংলাদেশের কাছ থেকে বিশ্বের অন্যদের অনেক কিছু শেখার আছে। অভিযোজনের বিষয়ে শিক্ষা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ এখন সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ।

তিনি বলেন, সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক ও ভালো আলোচনা করেছেন। ভবিষ্যতে ঢাকায় একটা অভিযোজন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কয়েকদিন আগে চীনের বেইজিং শহরে একটি অভিযোজন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বান কি মুন বলেন, প্রকৃতপক্ষে ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আর নষ্ট করার মতো সময় নেই। তিনি আরও জানান, খুব শিগগির জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিযোজনের কর্মপন্থা বিষয়ে তার কমিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। কীভাবে আসন্ন জলবায়ু মোকাবেলা করা হবে, অভিযোজন প্রক্রিয়া কীভাবে ব্যয়সাশ্রয়ী করা সম্ভব, সেসব বিষয় তুলে ধরা হবে এই প্রতিবেদনে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বান কি মুন :উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানান, বান কি মুন গতকাল কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রোগ ব্রেন্ডে ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ স্কেফার, ত্রাণ সচিব শাহ কামাল, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক প্রমুখ। উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী এসব তথ্য জানান।

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম জানান, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব উখিয়ার কুতুপালং ২০নং ক্যাম্প ও ১৭নং ক্যাম্প পরিদর্শন এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নর-নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।