অরিত্রির আত্মহত্যা

দুই শিক্ষকের বিচার শুরু

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

আদালত প্রতিবেদক

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম দুই শিক্ষকের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে আগামী ২৭ অক্টোবর সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন। চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। দুই আসামি হলেন- শিক্ষক নাজনীন ফেরদৌস ও জিনাত আরা।

জামিনে থাকা ভিকারুননিসার দুই শিক্ষক এ সময় আদালতের কাঠগড়ায়

হাজির ছিলেন। বিচারক তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনালে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। এরপর বিচারক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

গতকাল আদালতে এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সাবিনা আক্তার দীপা এবং দুই শিক্ষকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। আদালতে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, শিক্ষকদের কারণে নয়, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বাবা-মায়ের বিভিন্ন কথাবার্তায় শোকাহত হয়ে। যদি শিক্ষকদের বকাঝকার কারণে আত্মহত্যা করত তবে স্কুলেই সে আত্মহত্যা করত। এ সময় মামলার বাদী অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

গত ২০ মার্চ নাজনীন ফেরদৌস ও জিনাত আক্তারকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কামরুল হাসান তালুকদার। আসামিদের নির্দয় ব্যবহার ও অশিক্ষকসুলভ আচরণে অরিত্রি অধিকারী আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয় বলে চার্জশিটে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামিদের বিরুদ্ধে দ বিধির ৩০৫ ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়।

অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় তার বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করেন।

এর আগের দিন ৩ ডিসেম্বর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় অরিত্রি। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।