পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভাংচুর জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে গত ১৮ জুন সংঘটিত বাঙালি ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুল হাফিজের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এ দল সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। যদিও ওই প্রতিবেদনে দাখিলের তারিখ ২ জুলাইয়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিবুর রহমান ও বিসিপিসিএলের নির্বাহী প্রকৌশলী

রেজওয়ান ইকবাল খান।

এ তদন্ত প্রতিবেদনে চীনা এনইপিসির সেফটি ডিরেক্টরসহ মোট পাঁচজনের ও বাংলাদেশের ছয় শ্রমিকের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, নিম্নমানের খাবার, আবাসন সমস্যা, বেতন বৈষম্য, দোভাষীদের গাফিলতি ও নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক সাবিদ্র দাসের লাশ গুমের চেষ্টায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার কারণে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বাঙালি ও চীনা শ্রমিকদের মধ্যে ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ঘটনায় সংশ্নিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দায় উল্লেখ করতে গিয়ে তদন্ত কমিটি অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাব, প্রকল্পের নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স না থাকাসহ ১৩টি বিষয় উল্লেখ করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন রোধ করা, উভয় শ্রমিকদের সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, শ্রমিক নিয়োগে পুলিশের মাধ্যমে প্রাক-পরিচিতি নিশ্চিত করা এবং ওই এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষায়িত বাহিনী মোতায়েনসহ আরও ছয়টি বিষয় উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে ওই ঘটনার কারণ এবং ভবিষ্যতে যেন এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।