হাবিপ্রবিতে শিক্ষক পদে শিবিরকর্মী নিয়োগসহ নানা অভিযোগ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এই নিয়োগে ভালো ফল করার পরও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে নিয়োগ না দিয়ে রাজাকার ও জামায়াত পরিবারের সদস্য শিবিরকর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনে এটিসহ আরও নানা অভিযোগ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র মুহিউদ্দিন নুর জামায়াত পরিবারের সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়েও সে শিবিরের রাজনীতি করেছে এবং বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কটূক্তি করেছে।'

এ সময় প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. বলরাম রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. হারুন-অর রশীদ, অধ্যাপক ড. সাইফুর রহমান, অধ্যাপক ড. এটিএম সফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুর রশিদ, সহকারী অধ্যাপক কৃষ্ণ চন্দ্র রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. হারুন-অর রশীদ বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিয়োগ বোর্ডে সংশ্নিষ্ট বিভাগের অধ্যাপকদের না রেখে উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ ও পরিচিতদের রাখা হয়েছে। ফলে অনেক মেধাবী, যারা প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক পাওয়া, তাদের বঞ্চিত করে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের নেওয়া হয়েছে। উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের

প্রভাষক নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে মর্মে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য এবং বিভাগের চেয়ারম্যান লিখিতভাবে দ্বিমত পোষণ করেছেন। নিয়োগ পরীক্ষায় অতিরিক্ত সনদপত্রের ক্ষেত্রে নম্বর বরাদ্দ থাকলেও প্রকাশনার বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। কীটতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। কম নম্বরপ্রাপ্ত হলেও উপাচার্যের নিজস্ব এলাকার এবং আত্মীয়কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পরে সকাল সাড়ে ১১টায় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন সদর উপজেলার নয়নপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মমিন সরকারের স্ত্রী মনিজা বেগম। তিনি বলেন, আমার ছেলে আল মামুন সরকার মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করার পরও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অথচ রাজাকারের সন্তান কেবিএম মুহিউদ্দিন নুরের চাকরি হয়েছে।

এ ব্যাপারে কেবিএম মুহিউদ্দিন নুর বলেন, 'আমি ৭ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এতদিন আমার বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের সংশ্নিষ্টতার অভিযোগ না এলেও এখন করা হচ্ছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে আমি সিলেক্ট হয়েছি, কোনো অভিযোগ থাকলে তো আর চাকরি পেতাম না। আমার কিংবা আমার পরিবারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলার কোনো যৌক্তিকতা নেই।'

এসব ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. ফজলুল হক শতভাগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়েছে। যাদের নিয়োগ হয়েছে পুলিশ ভেরিফিকেশনে জামায়াত-শিবিরের সংশ্নিষ্টতা কিংবা হত্যা মামলার আসামি এমনটি পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মু. আবুল কাশেমের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।