নরসুন্দার দুই সেতু দখল করে ব্যবসা

কিশোরগঞ্জবাসীর দুর্ভোগ

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৯

সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

কয়েক দফা উচ্ছেদ করার পর ফের দখল হয়ে গেছে কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দার ওপর নির্মিত দুটি সেতু। স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অস্থায়ী দোকান বসিয়ে সেতুটি দুটি দখল করে রেখেছেন। এতে এসব সেতু দিয়ে রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন ও পথচারীর পারাপার হতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র গৌরাঙ্গবাজারের পাশে নরসুন্দা নদীর একটি সেতু রয়েছে। এ ছাড়া শহরের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য পুরানথানা বাজার এলাকায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণ করে সরকার। সাড়ে তিন বছর আগে সেতুটি চালু করা হয়; কিন্তু সেতু দুটি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রেখেছেন স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী। প্রথমে হকারদের মতো প্রতিদিন দোকান বসানো হতো। কিন্তু এখন সেখানেই অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে সেতু দুটি স্থায়ীভাবে দখল করে রেখেছে তারা। এতে সেতু দুটি দিয়ে যানবাহন চলাচল এমনকি পথচারী চলাচলেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, গৌরাঙ্গবাজারের সেতুটির বেশিরভাগ অংশেই হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দোকান রয়েছে। সেতুর দু'দিকের ফুটপাতসহ উত্তর-দক্ষিণ কোণের পুরো অংশ তাদের দখলে। পুরান

থানা বাজার ও বড়বাজারের মধ্যে নির্মিত সেতুটিরও প্রায় একই

অবস্থা। এ সেতুরও দু'পাশের ফুটপাতসহ বেশিরভাগ অংশ ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখলে।

সেতুর ওপর ব্যবসা করেন এমন কয়েকজন জানান, সেখানে ব্যবসা করার জন্য স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিতে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। তবে হঠাৎ করে তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ না করতে প্রশাসনের

প্রতি অনুরোধও জানান তারা। তাদের দাবি, বিকল্প ব্যবস্থা করে

তাদের উচ্ছেদ করা হোক। নইলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

সেতু দখল করে ব্যবসার বিষয়টি জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সভায় আলোচনা হয়েছে। এসব সভায় অবৈধ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না। এ নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের সভাপতি এনায়েত করিম অমি জানান, সেতুর রেলিংসহ ফুটপাত দখল হওয়ায় শহরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। আশা করব, অচিরেই এ অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরগঞ্জ পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ জানান, সেতুর ফুটপাত দখল করা সম্পূর্ণ বেআইনি। জনস্বার্থে অবিলম্বে তাদের উচ্ছেদ করা জরুরি। তবে এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে উচ্ছেদ কাজ সম্পন্ন হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবদুল্লাহ আল মাসউদ জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে একাধিকবার সেতু দুটি দখলমুক্ত করা হয়েছে। আবারও সুযোগ বুঝে ও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সেতু দুটি হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। এ ব্যাপারে শহরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন। আশা করি ঈদের আগে স্থায়ীভাবে সেতু দুটি দখলমুক্ত করা সম্ভব হবে।