সংবাদ সম্মেলনে বিআইপি নেতারা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া রিকশা বন্ধ নয়

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া রিকশা বন্ধ করা উচিত নয় বলে মত দিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংগঠনটি মনে করে রাজধানীর যানজট নিরসনে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারে লাগাম টেনে ধরা প্রয়োজন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বীরউত্তম সিআর দত্ত রোডে বিআইপির কনফারেন্স হলে 'ঢাকা শহরে রিকশা ও অযান্ত্রিক বাহনের চলাচল সম্পর্কে নগর পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে করণীয়' শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনাবিদরা এসব কথা বলেন।

বিআইপি সভাপতি এ কে এম আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মোহাম্মদ খান, সহ-সভাপতি আক্তার মাহমুদ, বুয়েটের অঞ্চল ও নগর পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মুসলে উদ্দিন, ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক মারুফ রায়হান, ইউএন-হ্যাবিটেটের নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ পরিকল্পনাবিদ সোহেল রানা প্রমুখ।

পরিকল্পনাবিদরা বলেন, রিকশায় প্রতিদিন ট্রিপ পড়ে ২৫-৩০টি।

গড়ে ৪০ জন যাত্রী প্রতিদিনই যাতায়াত করেন। অন্যদিকে প্রাইভেটকারে প্রতিদিন যাতায়াত করে ২-৪ জন যাত্রী। যা রিকশার চেয়ে সড়ক দখল করে বেশি। আর রিকশায় পরিবেশ দূষণ হয় না। প্রাইভেট কারে পরিবেশদূষণ হয়। তাই এর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

তারা বলেন, গাবতলী-আজিমপুর সড়কের আশপাশের ওয়ার্ডসমূহে আবাসিক এলাকা ৩৯ ভাগ। জনসংখ্যা ১৫ লাখ, প্রতি একরে জন ঘনত্ব ৬৬০ জন। আর কুড়িল-সায়েদাবাদ সড়কের আশপাশের ওয়ার্ডসমূহে আবাসিক এলাকা ৫৭ ভাগ। জনসংখ্যা ২১ লাখ, প্রতি একরে জন ঘনত্ব ৫৩০ জন। একই সঙ্গে গাবতলী-আজিমপুর সড়কের ২০০ মিটার পরিসেবায় আবাসিক এলাকা ৩৩ ভাগ। আর কুড়িল-সায়েদাবাদ সড়কের ২০০ মিটার পরিসেবায় আবাসিক এলাকা ৫৮ ভাগ। গাবতলী-আজিমপুর সড়কের চেয়ে কুড়িল-সায়েদাবাদ সড়কের আশপাশে জন ঘনত্ব বেশি। এই সড়কে গণপরিবহনও কম। সুতরাং বিকল্প ব্যবস্থা না করে রিকশা বন্ধ করা ঠিক হবে না।

বক্তারা বিভিন্ন দাবি জানিয়ে বলেন, শহরের রাস্তার সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে রিকশা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা ও ব্যবহার সুনির্দিষ্ট করতে হবে। জোনভিত্তিক গণপরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়ন দরকার। চক্রাকার বাস সার্ভিসের মতো সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য মানসম্মত কমিউনিটিভিত্তিক ট্রানজিট ব্যবস্থা চালু করতে হবে যেন মানুষ রিকশা কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ির বিকল্প খুঁজে পায়।

অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানে প্রাইমারি রোডে রিকশা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হলেও সাধারণ যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা না করে সড়কে রিকশা চলাচল বন্ধ করার বদলে ধাপে ধাপে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। শহরের অধিকাংশ সড়কেই পথচারীবান্ধব অবকাঠামো নেই, অথচ এসটিপিতে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘমেয়াদি সুফল পেতে হলে সামগ্রিকভাবে কাজ করতে হবে। এ ছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা না কমিয়ে শহরের সুষ্ঠু পরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।

ড. আদিল মুহাম্মদ খান তার উপস্থাপনায় বলেন- ব্যয়, সময় ও মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও পরিকল্পনা ছাড়া যানজট ও পরিবেশ দূষণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সামনের দিনগুলোতে ঢাকার মানুষের জীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলবে।

তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটি মিলিয়ে বৈধ রিকশার সংখ্যা ৭৯ হাজার ৫৪৭টি। তবে রাস্তায় চলাচলকারী রিকশার সংখ্যা ৮ থেকে ১০ লাখ।