রদবদল আসছে পুলিশে

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

ফসিহ উদ্দীন মাহতাব

পুলিশের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে তৃণমূল থেকে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জননিরাপত্তা সচিব এবং আইজিপির মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানানোর পর এ রদবদল উদ্যোগে সম্মতি জানিয়েছে সরকারের সর্বোচ্চ মহল। এর পরপরই বদলির তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

রদবদলের তালিকায় রয়েছেন থানায় সেবার ক্ষেত্রে অবহেলা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণকারী কর্মকর্তারা। বছরের পর বছর ধরে একই ইউনিটে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তারাও রয়েছেন এ তালিকায়। এ ছাড়া সারাদেশে ৯ হাজার ৬৮০ জন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ শেষ হলে বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার ও এডিশনাল এসপি পদগুলোতে রদবদল আনা হবে। পর্যায়ক্রমে ডিআইজি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার পদে নিয়োগ ও অন্য একটি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার পদে রদবদল হতে পারে।

এবারের বদলি প্রক্রিয়ায় অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। তবে পুলিশ ক্যাডারের ২৪ ব্যাচ, ২২ ব্যাচ ও ২৫ ব্যাচের কয়েকজনকে এসপি নিয়োগ করা হতে পারে। এর আগেও পুলিশে দুই দফা রদবদল হয়েছে।

আগামী ১৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাবেন। এ পদে সরকারের আস্থাভাজন, দক্ষ, সৎ ও সাহসী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকারের শীর্ষ মহল। একই সঙ্গে পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদোন্নতিসংক্রান্ত কমিটির একাধিক বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি মিললেই এ রদবদল শুরু হবে।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার পদে কে আসবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। এ ক্ষেত্রে চার অতিরিক্ত আইজিপির নাম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন- সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মারুফ হাসান ও পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) শাহাবুদ্দিন কোরেশীর নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। তবে সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ও শেখ মারুফ হাসানের মধ্যে যে কোনো একজন পুলিশ কমিশনার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বদলি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে খুলনা ও চট্টগ্রাম রেঞ্জ এবং মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গুরুত্বহীন স্থানে বদলি করেছে পুলিশ অধিদপ্তর। পুরো বিষয়টি তদারক করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর। এ সব থানায় দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে। বদলি ঠেকাতে ওসিরা (পরিদর্শক) স্থানীয় সাংসদ ও নেতাদের কাছে যাচ্ছেন। এমপিরা আবার তদবির করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে। সম্প্রতি প্রভাবশালী দুই নেতার বিশেষ অনুরোধে পুলিশ সদর দপ্তরের মৌখিক নির্দেশে দুটি থানার ওসি বদলি এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, বদলি ঠেকাতে তদবির করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা যেন আমলে না নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রদবদলের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, পুলিশের বদলি বা পদোন্নতি স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া চলমান। তবে যোগ্য, দক্ষ ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জেলা ও মেট্রোপলিটনে পদায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। এবারও এর ব্যতিক্রম

হচ্ছে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এজন্য সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রশিক্ষিত পুলিশ বাহিনী আইন-শৃঙ্খলা সুরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম।

বর্তমান সরকারের তিন দফা শাসনামলে পুলিশে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। নানামুখী সমস্যা থাকার পরও এ বাহিনীকে আধুনিক, যোগ্য ও প্রশিক্ষিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে সরকার।

পুলিশের বিভিন্ন লজিস্টিক সাপোর্ট যেমন বেড়েছে, তেমনি নতুন ১১টি ইউনিট যুক্ত হয়েছে। ৬৪ জেলায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আরও ৪০ হাজার জনবল নিয়োগ দেওয়ার

কথা রয়েছে।