এবি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ ১১ জনের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

এবি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় প্যাসিফিক টেলিকমের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হকসহ ১১ কর্মকর্তার দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

সূত্র জানায়, গতকালই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক উপপরিচালক মো. সামছুল আলমের সই করা আবেদনের কপি ঢাকার মালিবাগে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়। একই দিনে নিষেধাজ্ঞার কপি বিমান ও সব স্থলবন্দরে পাঠানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চেয়েছে দুদক।

দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞায় প্যাসিফিক টেলিকমের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ছাড়াও রয়েছেন পরিচালক ফিরোজ আহমেদ, সৈয়দ আফজাল হোসেন, সাবেক পরিচালক মো. আবদুল আউয়াল, মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন, শিশির রঞ্জন বোস, ফাহিমুল হক, মো. মেজবাহুল হক, জাকিয়া শাহরুদ খান রুনা, মিশাল কবির ও বি. বি. শাহ রয়।

এর আগে গত ১০ জুন প্যাসিফিক টেলিকমের আরেক সাবেক চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান ও তার স্ত্রী নাসরিন খানের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

জালিয়াতি করে আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংক

থেকে ৩৮৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন দুদকের উপপরিচালক শেখ আবদুস ছালাম। মামলাটির তদন্ত করছেন দুদক উপপরিচালক সামছুল আলম।

দুদক সূত্র জানায়, আসামিরা বিলুপ্ত মোবাইল অপারেটর কোম্পানি সিটিসেলের নামে ৩৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করার জন্য এবি ব্যাংক মহাখালী শাখায় আবেদন করেন। আবেদনটি যাচাই না করে ও কোনো ধরনের জামানত ছাড়াই ওই কোম্পানির নামে ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করা হয়। পরে ওই ব্যাংক গ্যারান্টির ভিত্তিতে আটটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সিটিসেলের ব্যবসা সম্প্র্রসারণের নামে ৩৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরে সিটিসেলের পক্ষ থেকে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করা হয়নি। এটি এক পর্যায়ে সুদ-আসলে দাঁড়ায় ৩৮৩ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার ৩৬৩ টাকা। যা গ্যারান্টারের দায় হিসেবে এবি ব্যাংক ওই টাকা আট ব্যাংককে পরিশোধ করেছে।