হজ পালনে যেভাবে সুস্থ থাকবেন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

হজব্রত পালনকালে হাজিদের স্বাস্থ্যরক্ষার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়, শারীরিক পরিশ্রম এবং সৌদি আরবের পরিবেশগত ভিন্নতার কারণে হাজিরা নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। এ জন্য দেশের হজক্যাম্পে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সৌদি সরকারও হাজিদের স্বাস্থ্যরক্ষার বিষয়ে আগাম দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন।

সৌদি আরবে তাপমাত্রা বেশি ও মাথা উন্মুক্ত থাকার কারণে পুরুষের মধ্যে গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কিছুটা বেশি। এ ছাড়া হাজিদের মধ্যে সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষ করে মেনিনগোক্কাল মেনিনজাইটিস বা মেনিনগোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে মস্তিস্কের

প্রদাহজনিত ইনফেকশনের বিষয়টি বেশ সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। এ ছাড়া অন্যান্য ইনফেকশনের মধ্যে শেভ বা ক্ষৌরকর্ম করার সময় এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি এবং সি'র ঝুঁকিও রয়েছে।

এ জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। হজের সময় রোদ এড়াতে কাপড় দিয়ে মাথা ঢেকে রাখা যেতে পারে। দরকার হলে মাথায় সাদা ছাতা ব্যবহার করতে হবে। গরমজনিত ঝুঁকি এড়াতে প্রচুর পানি পান করতে হবে। রাতে ভ্রমণ করতে হবে। কিছুটা লবণাক্ত খাবার এ সময় দরকার হয়, ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া লবণের ঘাটতি মেটানোর জন্য। শরীরের পানিস্বল্পতা এড়াতে সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি রাখতে হবে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে সৃষ্ট শারীরিক অবসাদ কাটাতে খাবার স্যালাইন পান করা যেতে পারে। এই খাবার স্যালাইন ডায়রিয়া হলেও উপকারে আসে। কাজেই সঙ্গে নিতে পারেন খাবার স্যালাইনও। বেশিরভাগ হাজিই গলাব্যথা, কাশি, ঘন ঘন হাঁচি, সর্দি ও জ্বরে ভুগে থাকেন। হঠাৎ পরিবেশ পরিবর্তনের জন্য এমনটি হয়ে থাকে। এসব সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য সাধারণ কিছু ওষুধপত্র, যেমন- ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল, হাঁচি-সর্দির জন্য ফেক্সোফেনাডিন জাতীয় ওষুধ, কাশির জন্য অ্যাডোভাস সিরাপ কিংবা সিনেকড ট্যাবলেট খেতে পারেন। এগুলো অল্প কিছু সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়াই ভালো। এ ছাড়া হজ পালনের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর থেকে মাল্টিভিটামিন গ্রহণ করা উচিত। কারণ, হজের দিনগুলোতে সুষম খাবারের অভাব দেখা দিতে পারে। সেই ঘাটতি পূরণে প্রতিদিনই মাল্টিভিটামিন গ্রহণ করা উচিত। অ্যাজমা বা হাঁপানি থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে হজব্রত পালনের প্রস্তুতি নিতে হবে। মসজিদে বা অন্য কোথাও চলাফেরার সময় কড়া সুগন্ধি ব্যবহার করা উচিত হবে না। কারণ, সুগন্ধি হাঁপানি এবং বিশেষ ধরনের মাথাব্যথা মাইগ্রেনের প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। হজব্রত পালনের সময় হাজিদের অনেক হাঁটতে হয়। কাজেই দেশে থাকতেই হাঁটার প্রস্তুতি নিতে হবে। হাঁটা খুব ভালো ব্যায়াম। হজের জন্য রওনা হওয়ার ছয় থেকে আট সপ্তাহ আগে থেকেই হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। হজ পালনের সময় ভিড়ের মধ্যে একজন হাজি থেকে অন্যজনের দূরত্ব বড়জোর এক ফুট হয়ে থাকে। এতে করে যে কোনো সংক্রামক রোগ খুব সহজেই একজন থেকে অন্যজনে ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। কাজেই ঝুঁঁকি এড়াতে হোটেল বা অবস্থানস্থল থেকে বের হওয়ার সময় মুখে মাস্ক বা মুখোশ পরা যেতে পারে। যারা চশমা ব্যবহার করেন, অতিরিক্ত একজোড়া চশমা সঙ্গে নেওয়া উচিত। আর এই চশমার লেন্স ও ফ্রেম প্লাস্টিক জাতীয় উপাদানে তৈরি হলে ভালো। কারণ, তাতে চশমা সহজে ভাঙবে না। হজের সময় অনেকেই মস্তিস্কের প্রদাহজনিত সমস্যা এবং ফ্লুর জন্য ভ্যাকসিন নিয়ে থাকেন। হজক্যাম্পেই এ ধরনের ভ্যাকসিন বা টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। হজে যাওয়ার কমপক্ষে দুই মাস আগে দাঁতের চেকআপ করানো উচিত। দাঁতে কোনো সমস্যা থাকলে সেগুলো সারিয়ে নিতে হবে। তা না হলে দাঁতের সামান্য সমস্যা হজব্রত পালনের সময় বড় সমস্যায় ফেলতে পারে। দাঁতের তীব্র ব্যথা নিয়ে হজ পালন কষ্টসাধ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। ডায়াবেটিস রোগীর পায়ের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। পায়ে নরম অথচ টেকসই জুতা পরতে হবে। তা না হলে সামান্য আঘাতে পায়ে ডায়াবেটিসজনিত বড় ক্ষত তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া অন্য ব্যক্তিদেরও পায়ের যত্ন হিসেবে নখ কাটা উচিত। শারীরিকভাবে বেশি ফিট থাকলে হজ পালনে কম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বেন। কোনো শারীরিক সমস্যা বোধ করলে কাছাকাছি মেডিকেল ক্যাম্পে গিয়ে সেবা নিতে হবে।