মুক্তাঝুরির উপকারিতা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

লেখা ও ছবি :মোকারম হোসেন

মুক্তাঝুরি নাম যেমন শ্রুতিমধুর তেমনি আকর্ষণীয় তার ঔষধিগুণ। দ্রব্যগুণ সংহিতা (তৃতীয় খণ্ড ১৯৯৭) এবং চিরঞ্জীব বনৌষধি (চতুর্থ খণ্ড ২০০০) গ্রন্থদ্বয়ে মুক্তাঝুরির উল্লেখ রয়েছে। গাছটির অভ্যন্তরীণ অপেক্ষা বাহ্যিক ব্যবহারই বেশি। পথের ধারে অনাদরে-অবহেলায় জন্মানো এই গুল্ম ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি, নিউমোনিয়া এবং বাতের চিকিৎসায় বিশেষভাবে উপকারী। এর পাতার রস তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মালিশ করলে বাতের ব্যথার উপশম হয়। পাতার রস পান করলে বমির উদ্রেক হয়। ক্ষত বা ঘায়ের জন্য পাতার রস খুবই উপকারী। পুরো গাছের রস কান ও বাতের ব্যথা কমায়। পাতার রস তিলের তেল মিশিয়ে ব্যবহারে অর্শ

রোগের উপকার হয়। শিশুদের পায়খানা কষা হলে দুই গ্রাম পরিমাণ গাছের শিকড় ৫-৬ চামচ পানির সঙ্গে বেটে ভালোভাবে ছেঁকে সেই পানি শিশুকে খাওয়ালে উপশম হয়। শিশুদের জিভের ঘায়ে গাছের রস নিমতেলের সঙ্গে মিশিয়ে ঘায়ে লাগালে সেরে যায়। শুকনো পাতার গুঁড়া কৃমিনাশক ওষুধ হিসেবেও খুবই কার্যকর। আগুনে শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে পাতার কস্ফাথ লাগালে জ্বালাযন্ত্রণা কমে। এই কস্ফাথ কাশি, যক্ষ্ণা ও শিশুর শ্বাসনালির প্রদাহে হিতকর। তা ছাড়া পাতার কস্ফাথ বিছার দংশনের ব্যথা-বেদনা নিরাময় করে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সূত্রে আমরা জানি, মুক্তাঝুরি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল। অর্থাৎ অসুখ বাঁধায় এমন অণুজীব ও ছত্রাকের হামলা থেকে গাছটি আমাদের বাঁচাতে পারে। কবিরাজরা জানেন কীভাবে মুক্তাঝুরি পাতার রস সামান্য লবণ দিয়ে খেলে চুলকানি, ফোঁড়া বা পাঁচড়া নিরাময় হয়। আবার বাতের ব্যথা নিরাময়ে নারিকেলের তেল বা লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে। এ গাছের রস রসুনের সঙ্গে শিশুদের খাওয়ালে কৃমি পড়ে যায়। অভিজ্ঞ কবিরাজরা মুক্তাঝুরি ফুসফুসের প্রদাহ, হাঁপানি ও শ্বাসনালির প্রদাহে ব্যবহার করেন। এ ক্ষেত্রে গাছটির ব্যবহার অমূল্যই বলতে হবে।

মুক্তাঝুরি (অপধষুঢ়যধ রহফরপধ) বর্ষজীবী গুল্ম। অবহেলিত এ গুল্ম ৩০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। পাতার অগ্রভাগে করাতের মতো কাটা রয়েছে। পাতা লোমযুক্ত ও ডিম্বাকৃতি। পাতার কোল থেকে বের হয় খাড়া পুষ্পমঞ্জরি। ফুলের বোঁটা ফুল অপেক্ষা ছোট ও সবুজ রঙের। ফুল ও ফলের মৌসুম বর্ষব্যাপ্ত।