এবার বামন বন

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

জাপানে বনসাই শিল্পের চর্চা শত বছরের পুরনো। ফুলকে আরও নান্দনিক করে সাজিয়ে রাখার শিল্প ইকেবানা কিংবা ছোট-বড় পাথর সাজিয়ে বাগানের আদলে গড়ে তোলা জেন গার্ডেন জাপানের সমাজ-সংস্কৃতিতে ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে। ঠিক এভাবেই দেশটির আরেক সাংস্কৃতিক পরিচয় হয়ে উঠেছে বনসাই। আর বিশ্বজুড়ে শিল্পিত বনসাইয়ের মাস্টার বলা হয় মাসাহিকো কিমুরাকে।

বনসাই শিল্পে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনায় প্রথমদিকে তাকে বিদ্রোহী হিসেবেই দেখা হতো। পরে অবশ্য তার শিল্প জায়গা করে নেয় বনসাইপ্রেমীদের অন্তরে। আর এখন কিমুরাকে সম্মান দেওয়া হয় মহান বনসাই মাস্টার বলে। খেতাব অবশ্য স্বল্পে মেলেনি। বনসাইয়ে একটি বৃক্ষ নয়, একটি পাত্রে পুরো বন বানিয়ে ছেড়েছেন কিমুরা। এ যেন বামন বন।

বনসাই বানাতে গিয়ে প্রথমে প্রথাগত রীতি ভেঙেছেন কিমুরা। তার বনসাইয়ের

পাত্রটি থাকে একটি মরা গাছের গুঁড়ি কিংবা শক্ত বাকলের। তার মাঝে মাটি দিয়ে বেশ কয়েক

জাতের গাছের বনসাই করেন তিনি। মাটির ভেতর দিয়ে মরা গাছের গুঁড়িটিকে সাপের মতো পেঁচিয়ে থাকে বনসাইয়ের শেকড়। তার এমনই একটি বিখ্যাত বনসাইয়ের নাম 'হানুকি বনের গাছ' যা একটি মাস্টারপিস ভাস্কর্যও বটে। এটি তিনি বানিয়েছিলেন প্রায় ২০ বছর আগে। পরে নিজের বনসাই শিল্প নিয়ে একটি বাগানই গড়ে তুলেছেন কিমুরা। জাপানের সাইতামা শহরের কাছে ওমিয়াতে অবস্থিত তার সেই বাগানে জায়গা পেয়েছে অগুনতি বনসাই। কিমুরার বনসাই বাগান দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন শত শত বনসাইপ্রেমীসহ উৎসুক পর্যটক।

বনসাইয়ে স্বাতন্ত্র্য এনে সময়কেই জয় করেছেন ৮০ বছরের কিমুরা। সূত্র : মাইমডার্নমেট ডটকম।