পেঁয়াজের বাজার এখনও অস্থির

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর বাজারে সপ্তাহজুড়েই পেঁয়াজের দামে অস্থিরতা চলছে। সপ্তাহের শুরুতে খুচরায় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১৫ টাকা বেড়েছিল। এর পরে আবার কেজিতে ১০ টাকা কমে যায়। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার আবার তা বাড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে আদা ও রসুনের দাম। গত সপ্তাহে আরও বেড়েছে এ পণ্য দুটির দাম। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে।

গতকাল রাজধানীর খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। দু'দিন আগে এই পেঁয়াজ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা ছিল। আর সপ্তাহের শুরুতে তিন দিন ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। আমদানি করা পেঁয়াজের দামও একইভাবে ওঠানামার মধ্যে রয়েছে।

গতকাল আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা মো. জাফর ও মিরপুরের পীরেরবাগ কাঁচাবাজারের বিক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, পাইকারি বাজারে গত সপ্তাহজুড়ে পেঁয়াজের দাম ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। এ কারণে খুচরা বাজারেও দামে হেরফের হচ্ছে। পেঁয়াজের এই দামে অস্থিরতার কারণে বিক্রিও কমে গেছে বলে জানান তারা।

এ ছাড়া বাজারে প্রতি কেজি চীনা রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও দেশি রসুন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা চীনা আদা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা ও থাইল্যান্ডের আদা ১৮০ থেকে ১৮০ টাকা এবং দেশি আদা ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল রাজধানী শ্যামবাজারে পাইকারি আড়তে দেশি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হয়। আগের দিন এই বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩২ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ২৮ থেকে ৩০ টাকা ছিল। পাইকারি বাজারে এই দামবৃদ্ধির প্রভাব আগামী সপ্তাহে খুচরা বাজারে পড়বে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। গতকাল পাইকারি এই বাজারে প্রতি

কেজি চীনা রসুন ১৪০ টাকা ও দেশি রসুন ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়। চীনা আদা ১০০ থেকে ১০৫ টাকা ও থাই আদা ১০৫ থেকে ১১০ টাকা বিক্রি হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পেঁয়াজের বাজারে এ অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আগামী সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পেঁয়াজ আমদানিকারক, আড়তদার, পাইকারি ব্যবসায়ী ও সংশ্নিষ্টদের নিয়ে এ বৈঠক করা হবে। বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াতে আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হবে। তা ছাড়া ভারতে দাম বেশি থাকলে অন্য দেশ থেকে আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

গত সপ্তাহে খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের লাল ডিম ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। এ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সভা :পেঁয়াজ, রসুন, আদাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যাতে বন্দরে দ্রুত খালাস হয় তার ব্যবস্থা করতে বন্দর সংশ্নিষ্ট জেলাগুলোর জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম। একই সঙ্গে এসব মসলা পণ্যের দাম যাতে অযৌক্তিকভাবে বাড়তে না পারে সে জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সব পর্যায়ের বাজার মনিটরিং বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

গতকাল পেঁয়াজ, রসুন, আদার আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাণিজ্য সচিব এসব নির্দেশনা দেন। সম্প্রতি অস্বাভাবিকভাবে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে। এই দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেন বাণিজ্য সচিব। মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে মসলা পণ্যের দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা করেন বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা সচিবকে জানান, পেঁয়াজ রফতানিতে ভারত প্রণোদনা তুলে দেওয়ায় আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি দেশে অনেক জায়গায় মজুদ পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয় যেসব বন্দর দিয়ে সেখানে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার ট্রাক ছাড় করতে দেরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।