ধর্ষণ মামলায় শরীয়তপুরে মেয়র পুত্র কারাগারে

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলায় জাজিরার মেয়রপুত্র মাসুদ ব্যাপারির অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার শরীয়তপুরের জেলা ও দায়রা জজ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভিকটিম নিজে ও তার মা-বাবা। ভিকটিম কলেজছাত্রী বলেন, মাসুদ আমার আত্মীয় হয়। তারপরও ধর্ষণ করতে পিছপা হয়নি। আমি তার পায়ে ধরে কেঁদেছি; কিন্তু রেহাই পাইনি। জামিনে

মাসুদ মুক্ত হওয়ার পর চাপে ছিলাম। আমি ওর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আসামি পক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান নজরুল বলেন, গত ৮ জুলাই আদালতের কাছে আসামির পক্ষে জামিনের আবেদন করি। মাসুদের স্ত্রী ও শিশু সন্তান অসুস্থ হওয়ার কারণে তিন দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী

(পিপি) মির্জা হযরত আলী বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে ওই দিন আসামিকে জামিন দেওয়ার বিরোধিতা করা হয়েছিল। ৮ জুলাই তিন দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে ১১ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। শুনানির দিন বৃহস্পতিবার মাসুদের পক্ষে আইনজীবী জামিনের জন্য আবেদন করলে জেলা ও দায়রা জজ জামিন নামঞ্জুর করেন।

গত ২৯ জুন বিকেলে শরীয়তপুরের জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনুছ ব্যাপারির ছেলে মাসুদ ব্যাপারি তার দূরসম্পর্কের আত্মীয় হতদরিদ্র প্রান্তিক কৃষকের এক কলেজ পড়ূয়া মেয়েকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়েটিকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে। নিজের বুদ্ধি আর সাহসিকতার জোরে মেয়েটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বিষয়টি রাত ১০টার দিকে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানতে পারলে মাসুদ ব্যাপারিকে ওই দিন রাত আড়াইটার দিকে আটক করা হয়। ৩০ জুন ওই মেয়েটি ও তার বাবা দুপুরে জাজিরা থানায় হাজির হয়ে ধর্ষণ মামলা করেন। ১ জুলাই ধর্ষক মাসুদকে আদালতের মাধ্যমে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।