ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কের পানি নামতে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত কমে আসায় রোববার রাত থেকে পানি নেমে যেতে থাকে। কক্সবাজার সড়কে ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হলেও বান্দরবান সড়কের অনেক স্থানে এখনও পানি জমে রয়েছে। ফলে এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কের কোরানীহাট হয়ে বান্দরবান চলাচলের পথে সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকার গড়দুয়ারা ও সত্যপীরের মাজার এলাকায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত সড়কের এই দুই পয়েন্টে এক হাঁটুরও বেশি পানি জমে রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম নগরী থেকে ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলো গড়দুয়ারা এলাকায় গিয়ে আটকা পড়ছে। আবার বান্দরবান থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো সত্যপীরের মাজার এলাকায় আটকে পড়ছে। যাত্রীরা ভ্যান ও নৌকায় করে মাঝখানের অংশটি পার হয়ে অন্যদিকের গাড়িতে উঠে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এতে যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বন্যা দেখা দিয়েছিল। তবে গতকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এক সপ্তাহ বন্যার পানি জমে থাকার পর রোববার রাত থেকে কমতে শুরু করে। তবে এখনও দুই উপজেলায় পানিবন্দি অসংখ্য মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।

গত ১১ ও ১২ জুলাই শঙ্খনদের পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করলে দুই উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। ভয়াবহ এ বন্যায় দুই উপজেলার অনেক রাস্তাঘাট তছনছ হয়ে গেছে। সড়কের অনেক জায়গা ভেঙে গিয়ে বড় বড় গর্ত হওয়ায় রিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে শত শত একর বর্ষাকালীন সবজিক্ষেত। বন্যার পানিতে আসা পলি ও বালুর নিচে চাপা পড়ে আছে বিস্তীর্ণ সবজিক্ষেত ও আউশের বীজতলা। ভেসে গেছে শত শত মৎস্য প্রজেক্ট। সব মিলিয়ে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় জনগণ ও বান্দরবানে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের।

এদিকে, বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী ও পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করেছে। তবে মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, বাসাবাড়ি পানিতে ডুবে যাওয়ায় কাদা জমে গেছে। কয়েকটি অফিস ও

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকের ক্ষেত ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আন্তঃউপজেলা সড়ক, বান্দরবান-কেরানীহাট ও বান্দরবান-চন্দ্রঘোনা সড়কের কয়েক জায়গা ভেঙে গেছে।

টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে আতঙ্কিত অনেক পরিবার নিরাপদে অবস্থানের জন্য জেলার ১৩১টি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, রেড ক্রিসেন্ট ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরত পরিবারগুলোকে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম জানান, ত্রাণসামগ্রী যথেষ্ট পরিমাণ মজুদ আছে। ত্রাণের জন্য কোনো সমস্যা নেই। জেলায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রতিবেদন আসার পর জানা যাবে।





মন্তব্য করুন