দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রামে উন্মুক্ত পরিসরে বড় কোনো সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম সমাবেশটি হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামে। আগামী ২০ জুলাই নগরীর কাজীর দেউড়ি মোড় কিংবা জেলা পরিষদ মার্কেট চত্বরে সমাবেশে লাখো মানুষের সমাগমের মাধ্যমে শোডাউন করে তাক লাগিয়ে দিতে চাইছে দলটি। কারণ এই সমাবেশের সফলতার ওপর অন্য বিভাগের সমাবেশগুলোর প্রভাব পড়বে। ফলে চট্টগ্রামে বিপুল লোকের সমাগমের মাধ্যমে তা সফল করতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। দলের কেন্দ্র্রীয় নেতাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে চলছে নানামুখী প্রস্তুতি। সমাবেশ ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর নিয়ে বিএনপির চট্টগ্রাম সাংগঠনিক জেলা। সমাবেশের তারিখ ঘোষণার পর থেকে বিভাগের এই ১০ সাংগঠনিক জেলায় প্রায় প্রতিদিনই চলছে প্রস্তুতিমূলক সভা-সমাবেশ। দ্বিতীয় বৃহত্তম সাংগঠনিক জেলা চট্টগ্রাম মহানগরসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে মাঠের রাজনীতিতে দলটি ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে এই সমাবেশ দিয়ে।

সমাবেশ সফলে সার্বিক দেখভাল করছেন চট্টগ্রামের শীর্ষ বিএনপি নেতা ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সমন্বয় করছেন দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম। চট্টগ্রামে সমাবেশের ভেন্যু হওয়ায় নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর রাত-দিন কাজ করছেন। গত রোববার নগরীর নাসিমন ভবনে সমাবেশ সফলে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কোন জেলায় কোন নেতা কী দায়িত্ব পালন করবেন, জানিয়ে দেওয়া হয় তা।

বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, 'নির্যাতন-নিপীড়ন ও মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে সরকার বিএনপিকে দুর্বল করার অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি। বরং আগের চেয়েও বিএনপি এখন শক্তিশালী। পুড়তে পুড়তে নেতাকর্মীরা খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে এরই বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।'

সমাবেশ প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত চট্টগ্রামের বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাখো মানুষ সমাগম করে তাক লাগিয়ে দিতে এলাকাভিত্তিক দলীয় নেতাদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এজন্য ১০ সাংগঠনিক জেলার আওতাধীন প্রতিটি আসনের বিএনপি প্রার্থীরা নিজেদের দায়িত্বে পাঁচ হাজার করে লোক নিয়ে আসবেন সমাবেশে। চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক জেলা ছাড়া অন্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও লোকজন নিয়ে আসবেন গাড়িতে করে। চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে আসতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্নিষ্ট থানা-ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলা কমিটি এবং এই দুই সাংগঠনিক জেলার আওতাধীন উপজেলা ও পৌরসভা নেতাদের আলাদা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কে কত নেতাকর্মী নিয়ে আসবেন, তাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ের ইউনিটগুলোকে।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম সমকালকে বলেন, 'যে কোনো মূল্যে  চট্টগ্রামের সমাবেশ সফল করা হবে। বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যানার-পোস্টার নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেবেন। ২০ জুলাই চট্টগ্রামে অন্য এক বিএনপিকে দেখা যাবে।'

দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যালয় আঙিনায় নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৭ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে নুর আহমদ সড়কে উন্মুক্ত পরিসরে সমাবেশ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এরপর থেকে উন্মুক্ত পরিসরে ফ্রন্ট, জোট কিংবা দলের ব্যানারে কোনো সমাবেশ করতে পারেনি বিএনপি। এই হিসাবে দীর্ঘ ২৬৬ দিন পর উন্মুক্ত পরিসরে সমাবেশ করতে যাচ্ছে দলটি। নগরীর কাজীর দেউড়ি মোড় কিংবা লালদীঘি মাঠ সংলগ্ন জেলা পরিষদ চত্বর মাঠে সমাবেশ করতে চায় তারা। এজন্য দলটির পক্ষ থেকে অনুমতি চেয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে সোমবার পর্যন্ত অনুমতি পায়নি বিএনপি। অবশ্য সমাবেশের অনুমতি পাওয়ার আশা নিয়ে পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

নগর বিএনপির উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস বলেন, 'সমাবেশের জন্য যে দুটি স্থান পছন্দ, তার একটিতে অনুমতি পাব বলে আমরা আশাবাদী। আবেদনের বিষয়ে কথা বলতে দু-একদিনের মধ্যে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।'

মন্তব্য করুন