ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ৩ জন। সাক্ষীরা জানিয়েছেন, মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ছাত্রীদের শ্নীলতাহানি করতেন। গতকাল সোমবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয়। আজ মঙ্গলবার আরও ৩ সাক্ষীকে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গতকাল সকালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সিরাজসহ ১৬ আসামিকে হাজির করে পুলিশ। শুরুতে আদালত মাদ্রাসার  ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোছাইনকে সাক্ষ্য দেওয়ার নির্দেশ দেন।

জবানবন্দিতে হোছাইন বলেন, ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ নুসরাত জাহান রাফির গায়ে হাত বোলায়। এ জন্য নুসরাতের মা শিরিন আক্তার মাদ্রাসায় এসে উত্তেজিত হয়ে সিরাজকে মারতে উদ্যত হয়। এর মাস খানেক আগে আরেক মাদ্রাসাছাত্রীর শ্নীলতাহানি করে সিরাজ। ওই ছাত্রীর বাবাও একজন মাওলানা। তিনি শিক্ষক প্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, সিরাজ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হওয়ার পর থেকেই ছাত্রীদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয় যে, অধ্যক্ষের চরিত্র খারাপ। ছাত্রীদের গায়ে হাত বোলায় ও নোংরা কথা বলে। ছাত্রীরা মাদ্রাসা শিক্ষিকা খুজিন্তা খানমকে বিষয়টি নিয়মিত অবহিত করেন। সিরাজের অসৎ চরিত্রের প্রতিবাদ জানালে মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা আবুল কাসেম, বেলায়েত হোসেন ও হাসান আহাম্মদকে শোকজ করা হয়।

পৌর কাউন্সিলর ও মামলার সাক্ষী মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, ২৭ মার্চ নুসরাতের শ্নীলতাহানির পর তার মা শিরিন আক্তার প্রথমে তাকে নিয়ে মাদ্রাসায় যান। এ সময় মাদ্রাসার আরও দুই ছাত্রী অধ্যক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে যৌন নির্যাতনের বর্ণনা করে। পরে পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার করে। শেষে সাক্ষ্য প্রদান করেন নুসরাতকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের চালক নুরুল করিম।

জবানবন্দি শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীর সাক্ষীকে জেরা করেন। পিপি হাফেজ আহাম্মদ ও বাদী পক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু এসব তথ্য জানান।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় নুসরাতের শরীরে আগুন দিয়ে হত্যা করে অধ্যক্ষ সিরাজের সমর্থকরা। এ ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিরাজসহ ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ২০ জুন থেকে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। গতকাল পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

মন্তব্য করুন