দীর্ঘ ১৯ বছরেও শাস্তির মুখোমুখি করা যায়নি যশোরের সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলের খুনিদের। সরকারের পক্ষ থেকে আদালতের একটি রুলের জবাব না দেওয়ায় ১৩ বছর ধরে থমকে আছে মামলাটির বিচার কার্যক্রম। এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যার বিচার চাইতে চাইতে ক্লান্ত নিহতের পরিবার। আর ১৯ বছর ধরে রাজপথে থাকা স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ বিচার না পেয়ে।

২০০০ সালের ১৬ জুলাই রাতে জনকণ্ঠ যশোর অফিসে কর্মরত অবস্থায় শামছুর রহমান দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি ২০০১ সালে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। কিন্তু এর পরপর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এলে কয়েক আসামির আগ্রহে মামলার বর্ধিত তদন্ত করে শামছুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাংবাদিক নেতা ফারাজী আজমল হোসেনকে নতুন করে আসামি করা হয়। একই সঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে বাদ দিয়ে সাক্ষী করা হয় আসামিদের ঘনিষ্ঠজনদের। এরপর বিতর্কিত ওই বর্ধিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ২০০৫ সালের জুন মাসে যশোরের বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন হয়। ওই বছরের জুলাই মাসে বাদীর মতামত ছাড়াই মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেপ্টেম্বর মাসে মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী সেলিনা আকতার লাকি হাইকোর্টে আপিল আবেদন করে বলেন, মামলার অন্যতম আসামি খুলনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মুশফিকুর রহমান হিরক পলাতক রয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের সঙ্গে খুলনার সন্ত্রাসীদের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে তার পক্ষে খুলনায় গিয়ে সাক্ষ্য দেওয়া সম্ভব নয়। বাদীর  এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি কেন যশোরের আদালতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না তার জন্য সরকারের ওপর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে রুলের জবাব না দেওয়ায় ১৩ বছর ধরে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে।

এতে ক্ষুব্ধ সেলিনা আক্তার লাকি বলেন, 'আমার স্বামী তো কখনও কারও ক্ষতি করেননি; বরং মানবতা ও সমাজের কল্যাণে সবসময় কাজ করেছেন। তাহলে কেন তার খুনের বিচার হবে না?'

এ মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মুশফিকুর রহমান হিরক পুলিশের খাতায় পলাতক রয়েছে। আরেক আসামি খুলনার ওয়ার্ড কমিশনার আসাদুজ্জামান লিটু র‌্যাবের ক্রসফায়ারে, কোটচাঁদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন কালু হার্টস্ট্রোকে এবং যশোর সদরের চুড়ামনকাটির আনারুল প্রতিপক্ষের হামলায় মারা গেছেন। বাকি আসামিরা জামিনে রয়েছেন।

এদিকে বিচার ছাড়াই আজ পার হচ্ছে সাংবাদিক শামছুর রহমানের ১৯তম হত্যাবার্ষিকীও। যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম পিটু জানান, আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তির পর মামলার কার্যক্রম ফের শুরু হবে।

নিহতের সহোদর ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন জেইউজের সভাপতি সাজেদ রহমান জানান, একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সাংবাদিক নেতাদের পক্ষ থেকে শামছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিটি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হয়। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে; কিন্তু কোনো অগ্রগতি হয়নি।

যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন বলেন, দীর্ঘদিনেও চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির বিচার না হওয়ায় সমাজে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।



মন্তব্য করুন