রাজধানীর উত্তরায় দুই বছর আগে কিশোর আদনান কবীর হত্যাকাণ্ডের পর নিষ্ফ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল বহুল আলোচিত কিশোর গ্যাং সংগঠন 'নাইন স্টার গ্রুপ'। তবে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে তারা। ওই গ্রুপের পুরনো চার সদস্য নতুন করে গড়ে তুলেছে এই গ্রুপকে। এবার নাম দেওয়া হয়েছে 'নিউ নাইন স্টার গ্রুপ'। এর পরই তারা শুরু করেছে নানা অপরাধ। র‌্যাবের গোয়েন্দা তদন্তে এসব তথ্য পাওয়ার পর গতকাল সোমবার র‌্যাব-১-এর একটি দল রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে গ্যাং গ্রুপের ১১ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে দুটি শটগান, চায়নিজ কুড়ালসহ চারটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, নিহত আদনান ছিল নাইন স্টার গ্রুপের সদস্য। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে হত্যা করা হয় তাকে। এরপর তদন্তে কিশোরদের গ্যাং গ্রুপের বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে উঠে আসে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নাইন স্টার গ্রুপের সদস্য আদনানকে 'ডিসকো ভয়েজ' ও 'বিগ বস' গ্রুপের সদস্যরা খুন করে।

র‌্যাব-১ জানায়, আদনান খুন হওয়ার পর নাইন স্টার গ্রুপটি নিষ্ফ্ক্রিয় হয়ে যায়। তবে ওই গ্রুপের পুরনো সদস্য হাবিবুর রহমান দাড়িয়া, ফয়সাল আহমেদ, বাবু মিয়া ও সাগর মিলে ফের গড়ে তোলে গ্রুপটি। ওই চারজন ছাড়াও গ্রুপটির নতুন আরও সাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার অন্য সাতজন হলো- রাকিবুল হাসান, রমজান আলী, নজরুল ইসলাম, শাহীন হাওলাদার, তুহিন ইসলাম, মাহমুদ হিরা ও রনি ইসলাম। তাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান দাড়িয়ার বয়স ৩০ হলেও বাকি সবার বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তারা সবাই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী।

র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে, কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম জানান, উত্তরা, তুরাগ, আবদুল্লাহপুর, টঙ্গী ও আশপাশের এলাকা কিছুদিন ধরে কিশোর গ্যাং গ্রুপগুলোকে অভিযান চালিয়ে নিষ্ফ্ক্রিয় করা হয়েছিল। সম্প্রতি নতুন করে তাদের আত্মপ্রকাশ ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি নজরে আসে। এর পরই অভিযান শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তুরাগ এলাকা থেকে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এসব গ্যাং গ্রুপ এলাকার আধিপত্য বিস্তার, স্কুল-কলেজে র‌্যাগিং করা, স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা, মাদক সেবন, ছিনতাই, উচ্চ শব্দ করে মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ ছাড়াও এরা ছিনতাই, অশ্নীল ভিডিও শেয়ার করাসহ এলাকায় নানাভাবে ত্রাস সৃষ্টি করে। এরা এলাকার নিরীহ ও মেধাবী উঠতি তরুণ বা কিশোরদের চাপে রেখে জোর করে নিজেদের গ্রুপে যেতে বাধ্য করে। এদের গ্যাং ভিত্তিক নিজস্ব লোগো রয়েছে, যা দেয়াল লিখন ও ফেসবুকে ব্যবহার করে তারা। গ্যাং গ্রুপগুলোর অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন