হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ঘিরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে স্বর্ণ চোরাচালানকারী ২৫ সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে কাজ করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক কর্মচারী। কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সিন্ডিকেটের সদস্যরা আন্তর্জাতিক চোরাচালানিদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই তৎপরতা কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। সম্প্রতি স্বর্ণ চোরাচালানের কয়েকটি ঘটনায় শাহজালাল বিমানবন্দরে দায়িত্বরত কয়েকজন কর্মী হাতেনাতে গ্রেফতার হওয়ার পর বিষয়টি ফের আলোচনায় উঠে এসেছে। কিন্তু স্বর্ণ পাচারে জড়িত কর্মকর্তারা এখনও রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে পুলিশের দাবি, স্বর্ণ পাচারে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, গত শনিবার দুপুরে সিঙ্গাপুর থেকে আসা থাই এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চার কেজি ওজনের ৩৮টি স্বর্ণের বার ঢাকায় নিয়ে আসে আন্তর্জাতিক চোরাকারবারিরা। ওই বার শাহজালাল বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে পাচারের সময় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা কার্গো হেলপার এমদাদ হোসেনকে আটক করেন। এ সময় তার সহযোগী ট্রাফিক হেলপার আবদুর রহিমকেও আটক করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়েছে। আটক দু'জন ছাড়াও এ মামলায় বিমানবন্দরের আরও কর্মীকে আসামি করা হয়। তারা হলেন- মোরশেদ, মফিজ, রফিকুল ইসলাম, সেলিম হোসেন ও শাহজাহান।

ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার ওসি (তদন্ত) স ম কাইয়ুম সমকালকে জানান, আটক দুই কর্মীকে রোববার আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। গতকাল সোমবার রিমান্ডের প্রথম দিনেই ওই দু'জন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। স্বর্ণ পাচারে জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন তারা। তদন্তের স্বার্থে এখনই সেসব নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে জড়িতদের গ্রেফতারে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।

এর আগে সম্প্রতি বিমানের একটি উড়োজাহাজের শৌচাগার থেকে সোয়া ১২ কেজি ওজনের স্বর্ণের বার জব্দ করেন ঢাকা কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া এয়ারক্রাফট মেকানিক আফজাল হোসেন হাওলাদার কারাগারে রয়েছেন।

বিমানবন্দর এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন শিমুল সমকালকে জানান, ডিউটির নামে বিমানের অসাধু কর্মীরা বিভিন্ন ফ্লাইট থেকে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানায়, শাহজালালে স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৫ সিন্ডিকেট জড়িত। বিমানবন্দরে ডিউটির নামে তারা সংশ্নিষ্ট শিফটের বড় কর্তাকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট থেকে চোরাকারবারিদের বহনকৃত কোটি কোটি টাকার স্বর্ণবার পাচার করে। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা পায় তারা। এ টাকার ভাগ যায় কতিপয় কর্মকর্তার পকেটেও।

এ ব্যাপারে বিমানবন্দর থানার ওসি নুরে আজম মিয়া সমকালকে বলেন, বিমানবন্দরে স্বর্ণ পাচারকারীদের ছাড় নেই। বিমানবন্দরে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে বিমানের বেশ কিছু কর্মী জড়িত রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন