পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএস) ৮ পরিচালক, তিন কর্মকর্তাসহ ১১ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করতে আদালতের আদেশ ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে। এসব ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও অবহিত করা হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়।

গত রোববার পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদন গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আসাদুজ্জামান খানকে প্রতিষ্ঠানটির সাময়িক অবসায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পিপলস লিজিংয়ের খারাপ অবস্থার জন্য অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আদেশ দেওয়া হয়। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক কোম্পানি বেঞ্চ এ  আদেশ দেন। বন্ধ হতে যাওয়া এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকার আমানত রয়েছে।

অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ও সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন- পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন, পিপলস লিজিংয়ের সাবেক পরিচালক ও রিয়েল এস্টেট কোম্পানি সামসুল আলামিন গ্রুপের আরেফিন সামসুল আলামিন, নার্গিস আলামিন ও হুমায়রা আলামিন; পিপলসের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক মতিউর রহমান, সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ ইসমাইল, বিশ্বজিত কুমার রায় ও খবির উদ্দিন মিয়া। এ ছাড়া সাবেক তিন কর্মকর্তা হলেন- কবির মোস্তাক আহমেদ, নিপেন্দ্র চন্দ্র পণ্ডিত ও মো. শহিদুল হক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পরিদর্শনে পিপলস লিজিং থেকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেওয়ার ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়। ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালে পাঁচ পরিচালককে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন তৎকালীন চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেম হোসেন। ১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলে। এর গুলশান ও চট্টগ্রামে দুটি শাখা রয়েছে।

মন্তব্য করুন