রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার পরও কারাগারে থাকা জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি এলাকার আজমত আলীকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। যাবজ্জীবন দণ্ডের বিরুদ্ধে আজমত আলীর করা রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে গত ২৭ জুন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। এরপর গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের সংশ্নিষ্ট শাখা থেকে ওই রায় প্রকাশ করা হয়। রায়ে আদালত বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরও আজমত আলীকে আবার জেলে পাঠানো অযৌক্তিক ও অপ্রত্যাশিত।

গত ২৫ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে 'রাষ্ট্রপতির ক্ষমার পরও ৯ বছর কারাগারে' শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে আপিল বিভাগে রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করে সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড কমিটি। আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট  আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন।

রায় প্রকাশের পর সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড শাখার সমন্বয়ক রিপন পল স্কু সাংবাদিকদের জানান, আজমত আলীর মেয়ে বিউটি খাতুন তার বাবার বিষয়ে আইনি সহায়তার জন্য আবেদন করেছিলেন। পর্যালোচনা সাপেক্ষে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যানের নির্দেশে আপিল বিভাগে রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন দায়ের করা হয়। ওই আবেদনে আপিল বিভাগ ২৭ জুন আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ দেন। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা থাকছে না।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দি এলাকার পাখিমারা গ্রামের ইজ্জত উল্ল্যা সর্দারের ছেলে আজমত আলী। তিনি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঘোড়ামারা এলাকার ভেঙ্গুলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। ১৯৮৭ সালের ১ এপ্রিল জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এলাকার কলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিম নিহত হন। এ ঘটনায় আজমত আলীকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। ওই মামলায় ১৯৮৯ সালের ৮ মার্চ জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেন। বিচারিক আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আজমত আলী। একই সময় তিনি রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার জন্যও আবেদন করেন। আপিল বহাল থাকার সময় রাষ্ট্রপতির ক্ষমায় ১৯৯৬ সালের ২১ আগস্ট জামালপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। আবার ২০০৫ সালের ২ মার্চ হাইকোর্টের রায়েও তিনি খালাস পান। কিন্তু এরই মধ্যে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বিধি অনুসারে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ২০০৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আজমত আলীকে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। এরপর ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর গ্রামের বাড়ি থেকে আজমতকে গ্রেফতার করে নিম্ন আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। সেই থেকে কারাগারেই আছেন তিনি। এদিকে, ২০১০ সালের ১১ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় ও আদেশ বাতিল করে নিম্ন আদালতের রায় (যাবজ্জীবন) ও আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় আজমতের মেয়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ ২৭ জুন রায় দেন।

মন্তব্য করুন