ইথিওপিয়া ও কেনিয়া থেকে নতুন মাদকদ্রব্য 'খাত' এনে বিক্রির জন্য সংরক্ষণে রেখেছিল মাদক ব্যবসায়ী মো. নাজিম। প্রাথমিকভাবে এটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এটিই দেশের 'খাত' মামলার প্রথম চার্জশিট। বিদেশ থেকে আমদানি করা নতুন মাদক খাতসহ হাতেনাতে ধরা পড়া নাজিম গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জে পরিচিত 'ভালো মানুষ' হিসেবে। চার্জশিটেই এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে। মাসখানেক আগে সে জামিনে কারামুক্ত হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসান সমকালকে বলেন, নাজিমকে অভিযুক্ত করে গত ১৩ জুন আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। নাজিমই একমাত্র আসামি।

দীর্ঘদিন ধরে নাজিম নতুন মাদকদ্রব্য আমদানি করে আসছিল। কিন্তু ধরা পড়ে গত বছরের ৩১ আগস্ট। এর পরই নতুন এ মাদক আলোচনায় আসে। চা পাতার মতো দেখতে এই মাদককে সংক্ষেপে 'খাত' বলা হয়। পুরো  নাম নিউ সাইকো অ্যাকটিভ সাবসটেনসেস বা এনপিএস। খাতে ক্যাথিনন বা ক্যাথিন উপাদান থাকে- যা ইয়াবার উপাদান এমফিটামিনের  মতো নেশা সৃষ্টি করে।

নাজিমের বাবার নাম হাজি আনোয়ার আলী। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার তেতইতলা। তবে নাজিমের বর্তমান বাসা ঢাকার রমনার সিদ্ধেশ্বরী এলাকায়।

এজাহার থেকে জানা যায়, গত বছরের ৩১ আগস্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা প্রথম ৮৬১ কেজি খাত জব্দ করে। এর মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৬৭ কেজি এবং শান্তিনগরে নাজিমের একটি গোডাউন থেকে ৩৯৪ কেজি খাত জব্দ করা হয়। শান্তিনগরের গোডাউন থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় নাজিমকে। এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক ফজলুল হক খান বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় নাজিমের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

তদন্ত-সংশ্নিষ্টরা জানান, চা-পাতার নামে ইথিওপিয়া ও কেনিয়া থেকে খাত আমদানি করে নাজিম। গ্রেফতার হওয়ার আগে প্রায় তিনশ' কেজি খাত আমদানির পর সেগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশে পাচার করেছে সে। এসব পাচার করা হয় বিমানে। পরে আরও বিপুল পরিমাণ খাত অর্ডার করে সে। পর্যায়ক্রমে সেগুলো ফরেন পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বিমানে এ দেশে আসে। মাদকদব্র্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগও (সিআইডি) খাতের কয়েকটি চালান আটক করে।

নাজিম একসময় পরিবারসহ দুবাই বসবাস করত। সেখানে প্রিন্টিং প্রেসসহ বিভিন্ন ব্যবসা করত। সেসময় ইথিওপিয়ার নাগরিক আদ্দিস আবাবার জিয়াদ মোহাম্মদ ইউসুফের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে এলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত নাজিম। ইউসুফের মাধ্যমেই নাজিম খাতের ব্যবসায় নামে। ইউসুফ ইথিওপিয়া থেকে তার কাছে খাতের চালান পাঠাত।

চার্জশিটের একাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামির নাম ও ঠিকানা যাচাই সংক্রান্ত মুন্সীগঞ্জ থানা থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজিমের স্বভাবচরিত্র ভালো। তার বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ তথ্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন