জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের এক কোটি ৯০ লাখ শিশুর মধ্যে এক কোটি ২০ লাখই সবচেয়ে বেশি বিপদাপন্ন। কারণ তারা বসবাস করছে নদীভাঙন এলাকা বা এসবের কাছাকাছি। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও ৪৫ লাখ শিশু বাস করে উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের আতঙ্কের মধ্যে। এ ছাড়া রয়েছে ৬০ লাখ উদ্বাস্তু শিশু। ২০৫০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হতে পারে। ফলে দিনে দিনে দুর্যোগের সময়ে শিশুদের হারিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যৌন নিপীড়ন, শিশুশ্রম, পাচার এবং অনিরাপদ অভিবাসনেরও ঝুঁকি বাড়ছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে 'জলবায়ু অর্থায়ন এবং শিশু' শীর্ষক জাতীয় সংলাপে বিশিষ্টজন এ আহ্বান জানান। রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল থেকে আসা প্রায় ৪০ জন শিশুও এ সংলাপে অংশ নেয়। যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ, কমিউনিটি পারটিসিপেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সিথ্রিইআর। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশবিদ ড. আইনুন নিশাত। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুল কাদির বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং এটি সব মানুষ, বিশেষ করে শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সবার উচিত, যার যার অবস্থান থেকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যক্রম নেওয়া। শিশুদের জন্য জলবায়ু অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি বেশ কঠিন। তবে তারা নিজেদের সুবিধা-অসুবিধার কথা বলছে, তাও কম না! শিশুরা স্বপ্ন দেখবে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে সরকার। তবে এককভাবে সরকারের পক্ষে সব কাজ করা সম্ভব নয়, সরকার নেতৃত্ব দেবে, সবাইকেই অংশ নিতে হবে।

আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বে নজিরবিহীন প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুদেরও নানা ক্ষতি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি, অসময়ে বৃষ্টি, অতি গরম, দীর্ঘসময় ধরে উচ্চ তাপমাত্রা, তীব্র ঠাণ্ডা এবং বজ্রপাতের মতো দুর্যোগ দিন দিন বাড়ছে। শিশুরা আগের তুলনায় বেশি অসুস্থ থাকছে।

সংলাপে অংশ নিয়ে শিশু হিরা মনি, মো. রফিক, ফারিবা জান্নাত ও মো. নাজিম জানায়, ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এবং জাতিসংঘের ক্লাইমেট চেঞ্জ কনভেনশনের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত শিশুদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়বে- যারা বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় ৩০ ভাগ। আর এর জন্য যে জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) গঠন করা হয়েছে, সেখানে শিশুবিষয়ক কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিকেএসএফের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদিক আহমেদ। আলোচক ছিলেন ইউএনডিপির জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ এ. কে. এম. মামুনুর রশিদ, কেএফডব্লিউর সিনিয়র আরবান রেজিলিয়েন্স স্পেশালিস্ট এস. এম. মেহেদি আহসান, গ্রিন সেভারসের পরিচালক আহসান রনি, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের হিউম্যানিটারিয়ান সেক্টর পরিচালক মো. মোস্তাক হোসেন, ডি আর আর অ্যান্ড সি সি এর উপপরিচালক সৈয়দ মতিউল আহসান, বদরুল আলম তালুকদার প্রমুখ।



মন্তব্য করুন