নারী এমপির গাড়ি ভাংচুর নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর সাদরিলসহ গ্রেফতার ১০

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সরকারদলীয় এক নারী এমপির গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিনের ছেলে নাসিক ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ সাদরিলসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। গত বুধবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এলাকার প্রবাসী কালু মিয়ার বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী সোহেল মামলা দায়ের করেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায়। কাউন্সিলর সাদরিলকে আদালতে পাঠিয়ে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত ২১ জুলাই শুনানির দিন ধার্য করেছেন বলে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

 মামলা সূত্রে জানা যায়, সাংসদ সেলিনা ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী সোহেলের চাচাতো বোন সালমা বেগমের সঙ্গে চাঁদপুরের হাফেজ আহমেদের বিয়ে হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। বিয়ের পর সালমা ও হাফেজ দম্পতি সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এলাকার কালুর বাড়ির চারতলায় ভাড়ায় বসবাস করতে থাকেন। সম্প্রতি দু'জনের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে একাধিকবার ঝগড়া হয়। ওই ঝগড়া সমাধানের জন্য সোহেলের অনুরোধে বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে আসেন এমপি সেলিনা ইসলাম। সালিশ শেষে উভয়পক্ষকে মিলে যাওয়ার কথা বলে ভবনের নিচতলায় চলে আসেন এমপি সেলিনা। তখন ওই ঘরের দরজা বন্ধ করে 'বাঁচাও বাঁচাও' চিৎকার শুরু করে হাফেজ আহমেদ। চিৎকার শুনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাদরিল ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় কাউন্সিলরের সঙ্গে থাকা লোকজন এমপির গাড়ি ভাংচুর করে।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় কাউন্সিলর সাদরিলকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- হাফেজ আহম্মেদ, খাইরুল ইসলাম, তানভির সিদ্দিকী, রাব্বি, কুদ্দুস, শাকিল, নাজমুল হোসেন, মোসলেম উদ্দিন ও ফয়েজ।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহীন শাহ পারভেজ জানান, সাংসদের গাড়ি ভাংচুর ও তার লোকজনকে মারধরের অভিযোগে কাউন্সিলর সাদরিলসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সাংসদের ব্যক্তিগত সহকারী সোহেল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।