প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে মন্ত্রপাঠের ঘটনা অন্যায় :হাইকোর্ট

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

ইসকন নামে একটি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলে প্রসাদ খাইয়ে শিক্ষার্থীদের 'হরে কৃষ্ণ হরে রাম' মন্ত্রপাঠ করানোর ঘটনাকে 'অন্যায়' বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন। গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে 'প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ' শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। তিনি আদালতে বলেন, এক ধর্মের রীতিনীতি অন্য ধর্মের মানুষের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া আমাদের সংবিধান সমর্থন করে না। তখন হাইকোর্ট বলেন, 'একটি এনজিও কোনো স্কুলে খাবার বিতরণ করতে পারে; কিন্তু জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে যদি প্রসাদ খাইয়ে মন্ত্রপাঠ করিয়ে থাকে, তবে সেটা অন্যায়।' হাইকোর্ট আরও বলেন, 'আমরা কোনো ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এর আগেও শবেবরাত নিয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। আপনারা (আইনজীবীরা) যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি আছে, স্থানীয় প্রশাসন আছে, তাদের বলুন।'

এ পর্যায়ে আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আদালত সবশেষ আশ্রয়স্থল। যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাব। সেখানে প্রতিকার না পেলে ফের আদালতের কাছে আসতে হবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়াল আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী 'ফুড ফর লাইফ' কর্মসূচির আড়ালে গত ১১ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম নগরীর ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইসকনকর্মীদের শেখানো মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মন্ত্রপাঠ করিয়ে প্রসাদ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের মন্ত্র পাঠের কারণে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অনেকেই প্রসাদ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।