মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলা হজে যেতে পারবেন সাবেক এমপি রানা

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ঘাটাইল আসনের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা হজে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হজে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি আবেদন করেন। পরে তার উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদ কবির আগামী ২৯ আগস্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে এ মামলায় এখন পর্যন্ত আদালতে মোট ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

আদালত পরিদর্শক তানবীর আহম্মেদ জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আসামি রানা টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালতে আসেন। পরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা

ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ডা. মোজাম্মেল হোসেন সাক্ষ্য দেন এবং পরে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। চিকিৎসকের সাক্ষ্য প্রদানের পর রানা আইনজীবীর মাধ্যমে হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করে আবেদন দাখিল করেন। পরে আদালতের বিচারক তা মঞ্জুর করেন। বিকেলে আদালত আগামী ২৯ আগস্ট মামলার পরবর্তী সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য করেন। এদিকে রানার আদালতে হাজিরা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কোর্ট চত্বরে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে দুটি হত্যা মামলায় দুই বছর ৯ মাস ২১ দিন কারাভোগের পর গত ৯ জুলাই সকালে আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তী সময়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত এবং ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রানা ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।