রোহিঙ্গা সংকট যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের ভূমিকা চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

সহিংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির পাঁচ সদস্যের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর এনআরবি নিউজের।

এদিন যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর (রিপাবলিকান) জেমস ই রিস এবং প্রভাবশালী সদস্য সিনেটর (ডেমোক্র্যাট) বব মেনেন্ডেজ, প্রতিনিধি পরিষদে পররাষ্ট্র সম্পর্কিত কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান (ডেমোক্র্যাট) ইলিয়ট অ্যাঙ্গেল, এশিয়া সম্পর্কিত সাব-কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান (ডেমোক্র্যাট) বব শারমেন এবং কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং-এর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

এসব বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা নয়, রাজনৈতিক সমর্থনও দরকার রোহিঙ্গা ইস্যুর শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধানে। রাশিয়া ও চীন যাতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তরিক অর্থে সোচ্চার হয়, সে ব্যাপারেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে।

বৈঠকের পর ওয়াশিংটন ডিসিতে হোটেল লবিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সংবাদদাতাকে বলেন, মিয়ানমার প্রশাসন একটি জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূলের

ষড়যন্ত্র করেছে এবং গণহত্যার সঙ্গে নিজেদের জড়িত করেছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। মিয়ানমার প্রশ্নে তাদের সোচ্চার হওয়া জরুরি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সিনেটর-কংগ্রেসম্যানরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের জানান, '৪১ হাজার পোলিং বুথের মধ্যে মাত্র ২১টিতে অনিয়ম, সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেগুলোর নির্বাচন স্থগিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। ২০০৮ এবং ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও নানা কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে। মানবাধিকারের প্রতিটি ইনডেক্সেই বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর আমন্ত্রণে ওয়াশিংটন ডিসি সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্সের কথা যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধিদের অবহিত করেন। এ সময় রোহিঙ্গা ইস্যুতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন সিনেট ও কংগ্রেসে পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির শীর্ষ নেতারা।