বিসিএস কাস্টমস ও ট্যাক্স অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি রাজস্ব আদায়ে ডিসিদের প্রস্তাব অযৌক্তিক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

রাজস্ব আদায়ে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সম্পৃক্ত করার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তা অযৌক্তিক ও এখতিয়ারবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) এবং বিসিএস (ট্যাক্সেশন) অ্যাসোসিয়েশন। গতকাল রাতে দুই অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ কাস্টমস ও কর কর্মকর্তাদের

মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হবে। সরকারের রাজস্ব আহরণে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।

ডিসি সম্মেলনে রাজস্ব আহরণে নিজদের সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। এ জন্য ডিসির নেতৃত্বে প্রত্যেক জেলায় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ও অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলা হয়।

এ ঘটনায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এনবিআরের অধীনস্থ কাস্টমস ও কর ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উল্লিখিত প্রস্তাবের প্রতিবাদ করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে দুই ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন। বিবৃতিতে সই করেন যথাক্রমে বিসিএস

ট্যাক্সেশন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সেলিম আফজাল ও মহাসচিব মো. নূরুজ্জামান খান এবং বিসিএস কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খন্দকার আমিনুর রহমান ও মহাসচিব সৈয়দ মুসফিকুর রহমান।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং এ-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম পরিচালিত হয় বিসিএস (ট্যাক্সেশন) ও বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট) ক্যাডারের মাধ্যমে। এ দুটি ক্যাডারের কর্মকর্তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতিনির্ধারণী নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজস্ব আইনের আওতায় স্ব-স্ব অধিক্ষেত্র থেকে রাজস্ব আদায় করে থাকে। আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক্ক আইন-২০১২ ও কাস্টমস আইন ১৯৬৯ অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা এ দুটি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুই ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা মনে করেন, ডিসিদের প্রস্তাব শুধু অন্যান্য পেশাভিত্তিক

প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইনের আওতায় পরিচালিত কার্যক্রমের ওপর অবৈধ এবং এখতিয়ারবহির্ভূত হস্তক্ষেপই নয়, বরং এর মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের জন্য অকল্যাণকর, এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরত রাখার জন্য সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।