দুই মন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট না পাওয়ায় বিস্ময়

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

হবিগঞ্জ ও নবীগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বন্যার্তরা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট না পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। পরে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার কসবা এলাকার একটি মাঠে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণকালে বিষয়টি নজরে আসে তার।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী ত্রাণ নিতে আসা ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা সবাই পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পেয়েছেন তো? এ সময় কয়েকশ' নারী-পুরুষ একসঙ্গে বলে ওঠেন- না, পাইনি। বিষয়টি শুনে অবাক হন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রশাসনের লোকজনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। পরে বন্যার্তদের পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিতে সংশ্নিষ্টদের তাগিদ দেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ-বিন হাসান বলেন, যথেষ্ট পরিমাণে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট পাইনি। যার কারণে শুধু আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে দিতে পেরেছি। মাঠ পর্যায়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিন নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক, আউশকান্দি, ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম। পরে তারা ত্রাণ বিতরণ করেন।

পরে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদকে সঙ্গে নিয়ে শেরপুর লঞ্চঘাট থেকে নৌকায় কুশিয়ারা নদীর ভাঙন ও বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট রক্ষায় নদীর তীরবর্তী এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের নর্থ প্যাডও পরিদর্শন করেন। এ সময় নদীভাঙন থেকে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড রক্ষায় প্রকল্প গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

গতকাল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দীঘলবাক ইউনিয়নের বিবিয়ানা নর্থপ্যাড নিকটবর্তী মাঠে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক তারেক মোহাম্মদ জাকারিয়া সভাপতিত্ব করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ মিলাদ, অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ হাশিম প্রমুখ।

ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বন্যার্ত মানুষের পাশে অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। হবিগঞ্জ তথা সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের এলাকায় পাঠিয়েছেন।

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেন, কুশিয়ারা নদীর দুই কূল রক্ষায় ৭.৪ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ৫১৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর ১৭৬ কিলোমিটার ড্রেজিং করা হবে। আগামী বছরে ওই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। তখন হবিগঞ্জের মানুষ অকালবন্যা থেকে রক্ষা পাবে। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কুশিয়ারা ডাইক নির্মাণে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

হাকালুকি হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত :মৌলভীবাজার ও বড়লেখা প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সদর উপজেলার খলিলপুর ইউপির চার গ্রামের মানুষের ঘরবাড়ি এখনও বানের পানিতে ভাসছে। পাঁচটি আশ্রয় কেন্দ্র ও রাস্তার পাশে হাজার খানেক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে হাকালুকি হাওরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বড়লেখার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বাড়িঘরসহ ১২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিমজ্জিত হয়েছে। গত সোমবার থেকে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

এ ছাড়া বন্যায় সুজানগর ইউনিয়নের বাড্ডা, রাঙ্গিনগর, দশঘরিসহ বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।