চায়ার ভেষজগুণ

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

লেখা ও ছবি :মোকারম হোসেন

চায়া একধরনের ঔষধি গাছ। অযত্ন-অবহেলায় পতিত জমিতে যে ক'টি আগাছা চমৎকার ঔষধিগুণ নিয়ে সগর্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে, চায়া তার মধ্যে অন্যতম। এই উদ্ভিদ এখানে প্রাকৃতিকভাবে জন্মালেও আয়ুর্বেদ সংহিতা বা নিঘণ্টুসমূহে এর কোনো উল্লেখ নেই। তবে দ্রব্যগুণ সংহিতায় এর গুণাবলি বিবৃত হয়েছে। এটি কষা, কটুবিপাক, বাতশ্নৈষ্ফ্মিক দোষনাশক ও অশ্মরী রোগের মহৌষধ। প্রস্রাবে জ্বালা, প্রদাহ, জননেন্দ্রিয় টাটানি ও তলপেট ভারী হলে কাঁচা গাছ ২০ গ্রাম কুচি কুচি করে কেটে থেঁতলিয়ে তিন-চার কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ছেঁকে ঠাণ্ডা করে সকাল-বিকেল পান করলে উপকার পাওয়া যাবে। এ ছাড়া গাছ

সিদ্ধ পানি বা কস্ফাথ মূত্রাশয় ও কিডনিতে পাথুরি জমলে অপসারিত হয়। ডায়াবেটিক রোগীর রক্তে চিনি কমানোর জন্য কস্ফাথ পানিসহ সেবনে উপকারী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রথম দিকে প্রস্রাবের মাত্রা বেড়ে গিয়ে শরীরের অতিরিক্ত চিনি বেরিয়ে যাবে এবং তারপর প্রস্রাবের মাত্রাও কমে আসবে। গর্ভাবস্থায় নানা রকম উপদ্রবেও এই ওষুধ উপকারী। বিশেষত চায়া খেলে প্রসূতি মায়ের শিশুরা পর্যাপ্ত দুধ পায়। ইউনানি চিকিৎসায় চায়া 'বিশেরী বুটি' নামে পরিচিত।

চায়া (অবৎাধ ষধহঃধহধ) বর্ষজীবী বীরুৎ। মাটিতে সামান্য গড়িয়ে বা শক্ত খাড়া হয়ে জন্মে। গোড়া কাঠের মতো শক্ত ও রোমশ। বহু শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট ৩০-৪৫ সেন্টিমিটার লম্বা। গাছটি যখন ফুলে ফুলে ভরে ওঠে, তখন দেখতে সত্যিই অপূর্ব লাগে। পাতা ছোট বোঁটাযুক্ত, প্রায় গোলাকৃতি বা ডিম্বাকৃতি, ধূসর-সাদা এবং নরম রোমাবৃত। ফুল সবুজাভ সাদা ছোট, পাতার কোলে সজ্জিত থাকে ফুল। ফুল হালকা সুগন্ধিযুক্ত। ফল অতি ক্ষুদ্র, ডিম্বাকৃতি, ডগা বা শীর্ষ সুচের মতো সরু, বীজ কালো।