সংবাদ সম্মেলনে আইসিসি প্রতিনিধি দলের প্রধান রাখাইন গণহত্যার তদন্ত শুরু হবে অক্টোবরে

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

আগামী অক্টোবরের মধ্যে রাখাইন গণহত্যার তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন সফররত আইসিসি প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেপুটি প্রসিকিউটর জেমস ক্রিকপ্যাট্রিক স্টুয়ার্ট। তিনি জানান, তদন্ত শেষ করে

আইসিসির চিফ প্রসিকিউটরের কাছে দেওয়া হবে। তিনি এটি আদালতের বিবেচনার জন্য দেবেন। আদালত অনুমতি দিলে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জেমস স্টুয়ার্ট জানান, তাদের এবারের ঢাকা সফরের উদ্দেশ্য তদন্ত করা কিংবা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ নয়। তারা এসেছেন তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়ে এ দেশের সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে। এরই মধ্যে তারা পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র এবং আইন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। এ তদন্তের ব্যাপারে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্যও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, বাংলাদেশ রোম সংবিধি স্বাক্ষর করা দেশ হিসেবে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র। কিন্তু মিয়ানমার সেটিতে স্বাক্ষর করেনি। দেশটি সদস্য রাষ্ট্র না হওয়ায় রাখাইনে গিয়ে তদন্তকাজ করা আইসিসি দলের পক্ষে সম্ভব নয়। মিয়ানমার বাহিনীর বর্বরতার শিকার ও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করেই তদন্ত শুরু করতে হবে। রাখাইনে গিয়ে তদন্ত করা সম্ভব হবে কি-না সে জন্য ভবিষ্যতের ওপরই নির্ভর করতে হবে।

আইসিসির ডেপুটি প্রসিকিউটর বলেন, হেগের আন্তর্জাতিক আদালত সম্পূর্ণ আইনি প্রতিষ্ঠান। এটি আইনের ভেতরে থেকে কেবল বিচারিক দায়িত্ব পালন করে। এখানে রাজনৈতিক কোনো বিষয় নেই। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইসিসি রাখাইনে সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের তদন্ত করবে। মিয়ানমার আইসিসির সদস্য রাষ্ট্র না হলেও এ তদন্তে কিংবা বিচারিক কাজ পরিচালনায় আইনগত কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, আইসিসির বিধান অনুযায়ী তদন্ত

চলার সময়ে প্রাপ্ত কোনো ধরনের তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা যাবে না। তদন্ত দল অবশ্যই সব তথ্যের গোপনীয়তা যথাযথভাবে রক্ষার নিয়ম মেনে চলবে। বিচার শুরু হলে তদন্তের তথ্য ক্রমশ প্রকাশ পাবে।

গত ১৬ জুলাই আইসিসির প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরে আসে। সফরকালে প্রতিনিধি দল আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে। প্রতিনিধিরা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মিয়ানমারের ওপর আসিয়ানের চাপ চান ইয়াংঘি লি :জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টার ইয়াংঘি লি বলেছেন, মিয়ানমারে নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তি ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি আসিয়ানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইউএনবি জানায়, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় ১১ দিনের সফর শেষে কুয়ালালামপুরে তিনি এসব কথা বলেন।