অদূর ভবিষ্যতে ঢাকায় পানি সংকট হতে পারে

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির ব্যবহার বাড়তেই থাকে। বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে, কাজেই ঢাকায়ও পানির ব্যবহার ক্রমাগত বাড়বে। একই সঙ্গে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি। অনিয়ন্ত্রিত গভীর নলকূপ ব্যবহারের ফলে ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ইতিমধ্যে বিপদসীমার নিচে চলে গেছে। নদী-নালা, খাল-বিল নিম্নাঞ্চল হারিয়ে যাচ্ছে। এতে ঢাকার ক্রমবর্ধমান পানির চাহিদা মেটানোর উৎসগুলো সীমিত হয়ে আসছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকায় ভয়াবহ পানির সংকট দেখা দিতে পারে।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) 'স্টেট অব দ্য সিটিজ ২০১৮ :ওয়াটার গভর্ন্যান্স ইন ঢাকা' শীর্ষক গবেষণাপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার তাকসিম এ খান। অনুষ্ঠানে গবেষণার মূল বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন বিআইজিডির অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেলার এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার মধ্য এবং উচ্চবিত্ত মানুষেরা প্রতিদিন মাথাপিছু ৩১০ লিটার পানি ব্যবহার করে, যেখানে শহরাঞ্চলে জনপ্রতি পানির ব্যবহার হওয়া উচিত ১৫০ লিটারের মতো। অর্থাৎ, এখানে পানির ব্যাপক অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে, নিম্ন আয়ের মানুষের মাথাপিছু পানির ব্যবহার মাত্র ৮৫ লিটার। সেখানে রয়েছে ব্যাপক সংকট।

গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ ঢাকাবাসী পানির উৎসগুলোর বিলুপ্তি বা দূষণ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে না। তাই এই বিষয়গুলো নিয়ে ঢাকাবাসীকে সচেতন করতে হবে এবং পানির অপচয় রোধে তাদের ভূমিকা পালনে অনুপ্রাণিত করতে হবে। পানির মান নিয়ে গবেষণায় বলা হয়, মাটির নিচের এবং ছাদের ট্যাঙ্ক নিয়মিত এবং সঠিকভাবে পরিস্কার না করার কারণেও পানির মান খারাপ হচ্ছে। তাই এই বিষয়েও ঢাকাবাসীকে সচেতন হতে হবে এবং পদক্ষেপ নিতে হবে।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য শিল্পায়ন খুবই প্রয়োজন। আর এটাই মাটির ওপরের পানি দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হলে পানির চাহিদাও বাড়বে। কিন্তু আমরা সেই চাহিদা মেটাতে কতটুকু পারব, সেটাই দেখার বিষয়।

ইঞ্জিনিয়ার তাকসিম এ খান বলেন, পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রিপেইড মিটার সংস্থাপনের চিন্তাভাবনা করছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। তবে এই পদ্ধতি শুরু করাটা বেশ কঠিন হবে। রিজওয়ানা হাসান বলেন, ওয়াসার চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থা ওয়েবসাইটে দিতে হবে, যাতে সাধারণ জনগণ বুঝতে পারে তাদের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।