ঢাকায় পুলিশ বক্সের সামনে বোমা আইএসের কথিত দায় স্বীকার, সত্যতা পায়নি পুলিশ

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর খামারবাড়ি ও পল্টনে পুলিশ বক্সের প্রবশেপথে বোমা রাখার ঘটনায় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কথিত দায় স্বীকারের খবর পাওয়া গেছে। জঙ্গি কর্মকাণ্ডে নজরদারি করা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টেলিজেন্স এক টুইটবার্তায় এই দায় স্বীকারের দাবি করে। তবে বাংলাদেশের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, আইএসের দায় স্বীকারের কোনো সত্যতা তারা পাননি।

গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় দুই পুলিশ বক্সের সামনে কার্টন ও শপিং ব্যাগে রাখা শক্তিশালী বোমা পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে গভীর রাতে সেগুলো নিষ্ফ্ক্রিয় করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, কেন বোমাগুলো সেখানে রাখা হয় তা জানা যায়নি। তবে আতঙ্ক ছড়ানোই এর উদ্দেশ্য ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন গোয়েন্দারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার আইএস এ ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বলে টুইট করে সাইট ইন্টেলিজেন্স। তাদের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে বোমা হামলার কথা বলা হলেও বাস্তবে বোমাগুলো কেউ চুপিসারে রেখে গিয়েছিল। অনেক পরে তা পুলিশের নজরে আসে।

সংশ্নিষ্ট পুলিশ বক্সে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারা জানান, সন্ধ্যার দিকে তারা প্রথম বোমার কার্টন বা ব্যাগ লক্ষ্য করেন। তবে তখন তারা বুঝতে

পারেননি ভেতরে কী আছে। বরং ব্যাগটি কোনো পুলিশ সদস্যের হবে ভেবে এক পাশে সরিয়ে রাখেন। রাতে সন্দেহ হওয়ায় খুলতে গেলে বেরিয়ে আসে বোমা। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বোমা নিষ্ফ্ক্রিয়করণ দলকে খবর দেওয়া হয়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের উপকমিশনার মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন সমকালকে জানান, বোমা রাখার ঘটনায় আইএস, জেএমবি বা অন্য কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী জড়িত কি-না তা এখনও জানা যায়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। বিভিন্ন তথ্য ও সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বিশ্নেষণ করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের সংশ্নিষ্টতা থাকার কোনো লক্ষণ মেলেনি। আইএস যে ধরনের বিস্ম্ফোরক ডিভাইস ব্যবহার করে, সেগুলোর একটার সঙ্গে অন্যটার মিল থাকে যা এক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি।